বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ" সম্পর্কে দুটি কথা।
শাস্ত্র তথা ধর্মগ্রন্থের অমিয় বাণী প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১২খ্রিষ্টাব্দে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, ৮৪/১ স্বামীবাগ রোড ঢাকায় স্বর্গীয় শ্রী অঁনিল কুমার মুখার্জী মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় “লোকনাথ গীতা শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে “লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়ের” সূত্র ধরে বিশ্ব মানব কল্যাণার্থে স্থানীয় ও সারাদেশের অনুরাগী ভক্তবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে “বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ।
স্বর্গীয় শ্রী অনিল কুমার মুখার্জী মহোদয় ও মন্দির পরিচালনা পরিষদ গীতা শিক্ষালয়ের শুরু থেকে গীতা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেন শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্যের উপর যার ধর্ম অনুশীলনের জীবন শুরু হয় নেহালপুরস্থ শ্রীশ্রী বাসুদেব যোগাশ্রম, চট্টগ্রাম থেকে এক শুভ লগ্নে। গুরু মহারাজ শ্রী বিপ্লব চৈতন্য ব্রহ্মচারীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায়, অত্যান্ত সুদক্ষ সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার মন্ডল এবং বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা শ্রী পঙ্কজ নাথ (এমপি) শ্রী প্রণব চক্রবর্তী, সি.এস.সি.এম (অতিরিক্ত সচিব অবঃ), দেবাশীষ বিশ্বাস, বিষ্ণুপদ ভৌমিক, রবীন মুখার্জী, শীতল চন্দ্র পাল, শ্রী অশোক কুমার দত্ত(ম্যাজিস্ট্রেট), তপন চন্দ্র ঘোষ, অনিল দাস, সন্তোষ কুমার রায়, মনোজ সাহা সহ আরো অনেক উপদেষ্ঠাদের সার্বিক সহযোগিতায় এবং কার্যকরী পরিষদের সমষ্টিগত দক্ষ পরিচালনায় আজ সারা দেশে পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্দেশ্য: অমূল্য আত্ম্যাত্মিক জ্ঞানের বিকাশ ঘটানোর জন্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার প্রচার ও প্রসারের প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি এর মূল উদ্দেশ্য। সনাতনী শাশ্বত ধর্মজ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিতে মানুষের দোরগোড়ায় সহজলভ্য করার জন্য প্রয়াস। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনাত আশ্রম, ছাত্র-ছাত্রী নিবাস, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে এ কার্যক্রমকে বেগবান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
![]() |
কার্যক্রম: বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘের প্রতিপাদ্য বিষয় হল “গীতার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো”। সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় মাতা হচ্ছেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। মানুষ যদি গীতার আদর্শে জীবন গড়ে-তাহলে মানুষে মানুষে হানা-হানি, ভেদা-ভেদ থাকবে না। গীতা শিক্ষালয়ে সদ্য ভাষা ফোটা ছোট শিশু দুগ্ধপোষ্য গীতা মায়ের সন্তানেরা মায়ের কোলে বসে পবিত্র গীতার অমৃতময় বাণী সংস্কৃত ভাষায় পাঠ করে। সুর ও সুস্পষ্ট উচ্চারণে নিপুন শব্দ চয়নে এক জন নিবেদিত কৃষ্ণভক্ত বাক্যোদ্ধার অপরুপ ভঙ্গিমায় অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
প্রতি
![]() |
শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়ে সকাল ১০.০০ টায় একই রঙ্গের বৈদিক রক্তিম গেরুয়া পোশাকে শিশু-কিশোররা সুসজ্জিত হয়ে ছুটে আসে “গীতা শিক্ষালয়ে। তাদের সুললিত কণ্ঠে প্রানোচ্ছল গীতা পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে স্বামীবাগস্থ শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির। মনে হয় বৈদিক মন্ত্রের অনুরণন হচ্ছে উচ্চারিত প্রতি শব্দ তরঙ্গে।
যুব
সমাজ ও সমাজের সর্বপর্যায়ে
গীতামাতার আলো বিতরণের জন্য বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ ১০ম বারের মত গীতাগ্রন্থ প্রকাশ
করেছেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার
সংঘ কর্তৃক প্রকাশিত গীতার সংখ্যা
৪৯,০০০ (ঊনপঞ্চাশ হাজার) । ১১তম গীতা প্রকাশনার কাজ চলমান রয়েছে।
১১তম প্রকাশনায় ১০,০০০ (দশ হাজার) কপি শ্রীমদ্ভগবদ গীতা প্রকাশ করার পরিকল্পনা নিয়ে সারা দেশের
গীতা প্রেমী ও ভক্তদের নিকট হতে অনুদান সংগ্রহের কাজ চলমান। উক্ত প্রকাশিত গীতা প্রতিটি ঘরে ঘরে বিনামূল্যে পৌঁছানোর জন্য সংঘের পক্ষ থেকে জোড়ালো ভাবে চেষ্টা চালানো হয়।
সারা দেশে প্রায় প্রায় ৪০০ টি গীতা শিক্ষালয়ের পাশা-পাশি এবং বিভিন্ন মঠ মন্দির আশ্রম, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গীতা পাঠে আগ্রহীদের ইতিমধ্যে হাজার হাজার গীতাগ্রন্থ বিনামূলে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের যেকোন স্থান থেকে গীতা শিক্ষালয়, বিভিন্ন মঠ, মন্দির, আশম,স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনামূল্যে বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ থেকে গীতা সংগ্রহ করতে পারেন।
বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘের লক্ষ্য:
১. ভক্তদের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মুখী করা।
২. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠে আগ্রহী করে তোলা।
৩.
ভক্তদের মাঝে সনাতন ধর্মের ভিত দৃঢ় করা।
৪.
সমাজে ও সংসারে শান্তি
প্রতিষ্ঠা করা।
৫.
সনাতনীর সুপ্ত ব্রহ্মজ্ঞান পুনরুজ্জীবিত করা।
৬.
সমাজের প্রতিটি স্তরে গীতার জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. প্রতিটি গ্রামে কমপক্ষে একটি গীতা শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করা।
৮.
বিনামূল্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিতরণ।
৯.
শিশু কিশোরদের ধর্মীয় অনুপ্রেরণা প্রদান।
১০.
গীতার আলোকে শৌর্য, বীর্য ও জ্ঞানদীপ্তীর আদর্শ
মানুষ সৃষ্টিতে সহায়তা।
১১.
বিশ্বমানবতার কল্যাণে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলো বিনামূল্যে ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া।
![]() |
কলমে--
নয়ন চন্দ্র গোলদার
সদস্য, বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ।
বি:দ্রঃ অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করা
নিষেধ।














Comments
Post a Comment