সমবয়সী কিংবা বয়সে ছোটদের নমস্কার দেওয়া উচিত?
গতকাল রাতে আমার সমবয়সী এক বন্ধু আমাকে ইচ্ছামত ধোলাই 😍😂 দিয়েছে। কারণ সে ফোন করলে আমি কেন তাকে শুরুতেই ‘নমস্কার’🙏জানাই। ওর মন পরিস্কার! ওর আপত্তি হলো : তুমি আমি সমবয়সী। সুতরাং আমাকে কেন নমস্কার দিবে কিংবা আমি কেন তোমাকে নমস্কার দিব?
আমি কেন
বন্ধুকে বা
তোমাদেরকে নমস্কার
🙏 দিই ...
সংস্কৃত নমস্
ধাতু থেকে
উৎপন্ন নমস্কার
কথাটির আভিধানিক
অর্থ হলো-
"প্রণাম করা",
"সম্মান করা"
অথবা "ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে
নত হওয়া"।
যার যার
ইষ্ট অনুসারে
কিংবা গুরুবাদী
মতাদর্শে বিভিন্ন
শব্দ যেমন
: হরেকৃষ্ণ, জয়গুরু ,জয় মা
ইত্যাদি উচ্চারিত
হয়। কিন্তু
নমস্কার 🙏সার্বজনীন। নমস্কার
মুখে উচ্চারণের
মাধ্যমে এবং
ষষ্টাঙ্গে বা
অষ্টাঙ্গে প্রণাম
করা হয়।
বিশ্ব
ধর্ম সম্মেলেনে
আমেরিকায় বিশ্ববরেণ্য
দার্শনিক ড.
মহানামব্রত ব্রহ্মচারীকে
একজন খ্রিস্টান
ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা
করলেন- নমস্কার কেন
করি? তিনি ভদ্রলোককে
ইংরেজিতে উত্তর
দিলেন- "I salute the God in you with
my head heart & soul." বাংলায়
বলা হচ্ছে-
আমার হৃদয়-মন দিয়ে
করজোড়ে অবনত
মস্তকে আপনার
ভিতরকার ঈশ্বরকে
অভিবাদন জানাচ্ছি।
এমন সুন্দর
উত্তর দিয়ে
তিনি বিশ্ববাসীকে
চমকে দিয়েছিলেন!
সমাজসংস্কারক শিবশঙ্কর
চক্রবর্ত্তীও এমন
সুন্দর ব্যাখ্যায়
ভূয়সী প্রশংসা
করেছেন তার
বহু লেখায়।
প্রচলিত রীতিতে
কেবল সনাতনীগণ-বয়সে ছোটদেরকে
নমস্কার জানাই
না,
এটাও
ঠিক নয়।
আমাদের শাস্ত্র,
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিভিন্ন
শ্লোকে শ্রীভগবান
জানিয়েছেন- সকল জীবের
মধ্যে ঈশ্বর
বা ব্রহ্ম
রয়েছেন। সুতরাং
আমরা কেউ
ছোট-বড়,
উচু-নীচু,
ধনী-গরীব
নই। বাহ্যিক
ভেদাভেদ ভুলে
ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে সকলকেই
নমস্কার করা
যায়, মানে
ঈশ্বরকে অভিবাদন
জানানো যায়।
এতে কারো
সম্মানের হানি
হয় না।
কারণ ঈশ্বরকে
প্রণাম করতে
সম্মানহানি কিসের
?
তাই বন্ধুকেও
আমি সর্বদা
নমস্কার 🙏 জানিয়ে আসছি।
দোষ করছি?
দোষ করলে-
নিজস্ব মতামত
প্রত্যাশা করছি,
এতে আমার জ্ঞান ভান্ডারও
সমৃদ্ধ হবে।
নমস্কার আপনাকেও। 🙏
হরে কৃষ্ণ।

Comments
Post a Comment