অষ্ট সখী সম্পর্কে অজানা এ তথ্য জানেন তো?
বৃন্দাবনে শ্রীরাধিকার সখীদের কথা পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। রাধার ছিলেন আট সখী, তাঁদের বলা হয় অষ্টসখী।
বৈষ্ণবদের কৃষ্ণভজনার নানা পথের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল সখীভাবে শ্রীকৃষ্ণ ভজনা করা। ললিতা সখী যিনি ভক্তমহলে এই ধারার অন্যতম সিদ্ধসাধক।
বলা হয় স্বয়ং চৈতন্যদেব ছিলেন এই রাধাভাবে কৃষ্ণভজনার অন্যতম পথ প্রদর্শক। বৈষ্ণব পরিমণ্ডলে তাঁকে বলা হয় রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু, ‘রাধাভাবদ্যুতি সুবলিত্যং কৃষ্ণস্বরূপম্’।
রাধারানীর ০৮ জন সখী
ছিলেন, তাঁরা হলেন-
ললিতা, বিশাখা, চিত্রা, ইন্দুলেখা, চম্পকলতা, রঙ্গদেবী, তুঙ্গবিদ্যা এবং সুদেবী।
তাদেরকে একত্রে অষ্ট সখী বলা হয়।
ললিতা সখী:
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর অন্যতম প্রধান সেবিকা ললিতা সখী।
অষ্ট সখীদের
মধ্যে ললিতা সখী প্রধান ছিলেন।
রাধারানির সবচেয়ে প্রিয় সখী ছিলেন ললিতা। আট সখী অনেক শিল্পে পারদর্শী ছিলেন। সঙ্গীত এবং প্রকৃতির রহস্য সম্পর্কে তাঁদের গভীর জ্ঞান ছিল। ললিতা সম্পর্কে কথিত আছে যে, তিনি ময়ূরপুচ্ছ রঙের শাড়ি পরতেন। ললিতার সুগন্ধি সম্পর্কে বিশেষ উপলব্ধি ও জ্ঞান ছিল। তিনি রাধাকে তাম্বুল অর্থাৎ পানের খিলি দিতেন।
চিত্রা:
চিত্রা ছিলেন রাধার তৃতীয় সখী। চিত্রার অঙ্গগুলি কেশরের মতো উজ্জ্বল ছিল। তিনি কাচবর্ণের সুন্দর শাড়ি পরতেন। তিনি শ্রীরাধিকাকে সাজাতেন। চিত্রা সম্পর্কে কথিত আছে যে তিনি রাধার কথা ইঙ্গিতে বুঝতেন।
ইন্দুলেখা:
ইন্দুলেখা ছিলেন রাধার চতুর্থ প্রিয় বন্ধু। তিনি লাল শাড়ি পরতেন। ইন্দুলেখা সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি সর্বদা খুশি থাকতেন। সর্বদা ঠোঁটে লেগে থাকত হাসি। তিনি নাচ এবং গানে পারদর্শী ছিলেন।
চম্পকলতা: চম্পকলতার সৌন্দর্য ছিল চম্পা ফুলের মতো। তাই তাঁকে চম্পকলতা বলা হত। চম্পকলতা নীল শাড়ি পরতেন।
রঙ্গদেবী: রঙ্গদেবী
জবাকুসুম রঙের শাড়ি পরতেন। তিনি রাধার পায়ে আলতা পরানোর কাজ করতেন। উপবাসের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানের জ্ঞান রাখতেন রঙ্গদেবী।
তুঙ্গবিদ্যা:
তুঙ্গবিদ্যা হলুদ শাড়ি পরতেন। তাঁর বুদ্ধি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি নিজের বুদ্ধিমত্তার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। চারুকলায় তুঙ্গবিদ্যায় বিশেষ জ্ঞান ছিল। সঙ্গীতেও পারদর্শী ছিলেন।
উপকারী মনে হলে শেয়ার করে অন্যকে
জানার সুযোগ করে দিবেন।
রাধে রাধে।




Comments
Post a Comment