পারিবারিক সহমর্মিতা-রুখতে পারে আত্মহত্যা”-নয়ন চন্দ্র গোলদার
বর্তমান পেক্ষাপটে কিংবা জীবনের যে কোন চরম পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া একজন ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত নয় বরংচ অনুচিৎ। কেবলমাত্র আত্মহত্যা মূল সমস্যার সমাধান করতে পারে না কখনো। আত্মহত্যার ফলে মূল সমস্যার সমাধান তো হয়ই না বরংচ সমস্যা অধিক থেকে অধিকতর জটিল হয়। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, দেশ তথা জাতি এতে পীড়া লাভ করে।
পারিবারিক সহমর্মিতা এই আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরু দায়িত্ব পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি। মানুষ সামাজিক জীব। অন্য যে কোন সুখের চেয়ে পারিবারিক সুখ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক সুখ ও ভালবাসা লাভকারী ব্যক্তি জীবনে সর্বদা সফলতা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এমনকি সমস্ত কল্যাণকর বস্তু লাভ করে থাকে। পরিবারের সদস্যদের একে অপরের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে সে পরিবার যথেষ্ট সামর্থবান না হলেও সেই পরিবারে কখনও সুখ নামক পাখিটি চলে যায় না, সর্বদা বিরাজমান থাকে।
মানুষ অনেক সময় জীবনে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা নামক এই মানসিক ব্যাধির পথ বেছে নেন। কেউ চাকুরী না পাওয়ার জন্য, অপমান-লাঞ্চনা, যৌতুক, বেকারত্ব বা দারিদ্রতার জন্য, কেউবা পরকীয়া আবার কেউ প্রেম ভালবাসা কিংবা প্রিয় কোন মানুষের জন্য তার মহামূল্যবান জীবনটি অনায়াসে নিজ হাতে ধ্বংস করে ফেলেন। এমন কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনও হলে তা পরিবারের সাথে সর্বপ্রথমে শেয়ার করা উচিৎ। পরিবারের সদস্যদেরও
মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিটির আচরণ লক্ষ করে তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে ব্যক্তিটিকে সাহস ও ভালবাসা দিয়ে তার মনোবল বৃদ্ধি করা একান্ত জরুরী। এতে আর
যাই হউক কখনও আত্মহত্যা নামক ব্যাধির দারস্ত ঐ ব্যক্তিকে হতে হবে না।
বৈজ্ঞানিক এই যুগেও স্রষ্টার সাহায্য ব্যাতীত মানুষ কোন প্রাণ কেন, একটা তৃণ লতাও সৃষ্টি করতে পারে না । তাহলে স্রষ্টার দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ সেই প্রাণ ধ্বংস করার অধিকারও কারো নেই।
আত্মহত্যার মত অভিলাস কখনও মাথায় চাপলে আপনার
পরিবারের সদস্যদের কথা ভাবুন, অন্য প্রিয় বস্তুর কথা, বুকের মাঝে লালিত হওয়া স্বপ্নের কথা ভাবুন। আর তা বাস্তবায়নের কথা ভাবুন, কেননা তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও আপনার একান্তই নিজের, সেটা কল্পনা করুন। পরিবারের সদস্যদেরও আত্মহত্যায় উৎসুক ব্যক্তিকে এ বিষয়ে সর্বাত্মক বুঝানো উচিৎ। তখন দেখবেন আত্মহত্যা নামক ব্যাধি থেকে তখন সে নিজেকে অতি সহজেই মুক্ত করতে পারবে।
আত্মহত্যা একটি জগন্য পাপ।
হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন -
"যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।"(বোখারী-৫৭০০; মুসলিম-১১০)
ঈশ উপনিষদে আত্মহত্যার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। সাবধান করে বলা হয়েছে যে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি মৃত্যুর পর আনন্দহীন লোকে\স্থানে গমন করবে ।
অসুৰ্য্যা নাম তে লোকা অন্ধেন তমসাবৃতাঃ।
তাংস্তে প্রেত্যাভিগচ্ছন্তি যে কে চাত্মহনো জনাঃ।।(ঈশ উপনিষদ)
অনুবাদ
: অসুরদের
আবাসস্থল
ঘন
অন্ধকারে
আবৃত
লোকে
যেখানে
সামান্য
আলোও
পৌঁছায়
না
এমন
জায়গায়
দেহ
ত্যাগের
পর
সেইসব
মানুষ
প্রবেশ
করবে
যারা
নিজেরাই
নিজেদের
হত্যা
করেছে।
আমাদের প্রত্যেকেরই ধর্মীয় রীতি-নীতি বিশ্বাস ও পালন করা কর্তব্য। আর তাই ধর্ম মানলে ধর্মীয় রীতি-নীতিগুলোও মানবেন সকলে।
পরিশেষে সকলের উদ্দেশ্যে বলছি, পরিবারকে সময় দিন, পরিবারই প্রকৃত বন্ধু, পরিবারের সাথে সব কিছু মন খুলে শেয়ার করুন। পরিবারের সদস্যদের সাহস, শক্তি ও ভরসা দিন। তাহলে দেখবেন যে কোন সমস্যা অতি সহজেই কেটে যাবে। মানসিক এই নিকৃষ্ট ব্যাধি হতে সকলে মুক্ত থাকুন, মানব জীবন স্বার্থক ও সুন্দর করুন।

Comments
Post a Comment