প্রণাম কী, প্রণাম কত প্রকার ও কি কি ?
প্রণাম হল একটি "সম্মান সূচক অভিবাদন" বা "শ্রদ্ধাপূর্বক ভক্তি"।পায়ে বা মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে শ্রদ্ধাপূর্ণ অভিবাদন, প্রণতি জ্ঞাপনকে প্রণাম বলা হয়।
শাস্ত্র অনুযায়ী প্রণাম করার বিধি দুই প্রকারঃ-
(১)সাষ্টাঙ্গ প্রণাম এবং (২)পঞ্চাঙ্গ প্রণাম।
তবে ছয় প্রকার: ৬ প্রকার প্রণাম রয়েছে।
১) অষ্টাঙ্গ, ২)ষষ্ঠাঙ্গ, ৩)পঞ্চাঙ্গ ,৪) দন্ডবত, ৫) নমস্কার , ৬) অভিনন্দন।
এদের মধ্যে অষ্টাঙ্গ ও পঞ্চাঙ্গ প্রণামই দেব পূজায় প্রচলিত।
অষ্টাঙ্গ-প্রণাম:
🙏অষ্ট অঙ্গ দ্বারা প্রণাম নিবেদন করাকে অষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।
অর্থাৎ, চক্ষু দ্বারা মূর্ত্তি দর্শন ও মন দ্বারা চিন্তা, এবং জানুদ্বয়, পদদ্বয়, হস্তদ্বয়, বক্ষ ও মস্তক-এই পাঁচ অঙ্গ ভূমি-লগ্ন করিয়া, বাক্য দ্বারা প্রণাম মন্ত্র পাঠ করে দণ্ডবৎ প্রণামকে অষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে। লাঠিকে দাঁড় করিয়ে ছেড়ে দিলে যেমনভাবে পড়ে যায়, অর্থাৎ পূর্ণ সমর্পন, তেমনভাবে " অষ্টাঙ্গ প্রণাম "করতে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে অষ্টাঙ্গ-প্রণাম করাই উত্তম।
পদ্ভ্যাং করাভ্যাং জানুভ্যামুরসা শিরসা দৃশা।
বচসা মনসা চৈব প্রণামোহষ্টাঙ্গ ঈরিতঃ।
যেমন-
১) দুই বাহু,
২) দুই চরণ,
৩) দুই জানু,
৪) বক্ষ,
৫) মস্তক,
৬) দৃষ্টি,
৭)মন ও
৮) বচন।
🙏 অষ্ট অঙ্গ দ্বারা প্রণতি নিবেদন করা পুরুষদের কর্তব্য।
পঞ্চাঙ্গ-প্রণাম :
🙏 পঞ্চ অঙ্গ দ্বারা প্রণাম নিবেদন করাকে পঞ্চাঙ্গ-প্রণাম বলে।
বাহিভ্যাঞ্চৈব জানুভ্যাং শিরসা বচসা দৃশা।
পঞ্চাঙ্গোহয়ং প্রণামঃ স্যাৎ পূজাসু প্রবরাবিমৌ।।
যেমন-
১) দুই জানু,
২) দুই বাহু,
৩) মস্তক,
৪)মন ও
৫) বচন
🙏 মহিলাদের ক্ষেত্রে পঞ্চাঙ্গ প্রণাম করাই উত্তম।
এছাড়া অন্যান্য প্রণাম গুলো হলো:
ষষ্ঠাঙ্গ– পায়ের আঙ্গুল, হাঁটু, হাত, চিবুক, নাক এবং কপাল দিয়ে মাটি স্পর্শ করা।
দন্ডবত– কপাল নিচু করা এবং মাটি স্পর্শ করা।
নমস্কার – কপাল স্পর্শ করা হাত। এটি লোকেদের মধ্যে প্রকাশ করা অভিবাদন এবং অভিবাদনের আরও সাধারণ রূপ।
অভিনন্দন– বুক স্পর্শ করে হাত ভাঁজ করে সামনে বাঁকানো।
যখন যখন প্রণাম করতে হয় না: সন্মুখে রাখিয়া সকল দেবতাকেই প্রণাম করা যায়। সনাতন ধর্ম মতে গুরুজন ও দেব-প্রতিমাকে দেখিলেই প্রণাম করিতে হয়। পিতা, মাতা, জ্যেষ্ঠভ্রাতা প্রভৃতি গুরুজনকে প্রত্যহ প্রাতঃকালে ও সায়ংকালে প্রণাম করা কর্ত্তব্য। গুরুজনদিগকে সন্মুখে রাখিয়া প্রণাম করিতে হয় কিন্তু তাঁহারা বেগে গমন করিতে থাকিলে, অপবিত্র থাকিলে, অন্যমনস্ক থাকিলে, তেল মাখিলে, স্নান বা আহার করিতে থাকিলে, জপ বা হোম করিতে থাকিলে এবং তাঁহাদের হস্তে পুষ্প, মৃত্তিকা, কুশ, জল অগ্নি বা অন্ন থাকিলে, সে সময়ে প্রণাম করতে হয় না।
এক হস্তে প্রণাম করিতে নাই। পশ্চান্তাগে ও প্রণাম করিতে নাই। পিতৃব্য, পিতৃষসা, মাতুল ও মাতৃষসা, বয়ঃকনিষ্ঠ হলে প্রণাম করিতে হয় না। কিন্তু গুরুপত্নী, ভ্রাতৃজায়া ও বিমাতা বয়ঃকনিষ্ঠা হইলেও প্রণম্য।
পিতা ও মাতা একত্র থাকিলে অগ্রে পিতাকে প্রণাম করিয়া, পরে মাতাকে প্রণাম করিতে হয়। গর্ভে ধারণ ও পোষণের জন্য অপেক্ষা মাতা গুরুতর হইলেও পিতা অগ্রে পূজ্য ও প্রণম্য। শাস্ত্রে আছে-শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন হইতে মুথুরায় গিয়া অগ্রে বসুদেবকে প্রণাম করিয়া পরে দেবকীকে প্রণাম করেছিলেন।
ব্রাহ্মণে প্রণাম করিলে 'বিষ্ণবে নমঃ' বলিয়া প্রণাম করতে হয়।
পুত্রাদি প্রণাম করিলে 'স্বস্তি' বলতে হয়।
এছাড়া অন্যবর্ণে প্রণাম করিলে "জয়োহস্তু" "কল্যাণ্মস্তু" "ধর্ম্মে মতিরস্তু" ইত্যাদি বলিয়া আশীর্ব্বাদ করতে হয়।

.jpg)

.jpg)
Comments
Post a Comment