গঙ্গা স্নান করলে সব পাপ ধুয়ে যায়? জানুন আজ সঠিকটা।
🙏🌺🙏গঙ্গা স্নান করলে নাকি সব পাপ ধুয়ে যায়। কারন এই গঙ্গা নদীকে আমাদের সনাতন ধর্মে খুব পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই গঙ্গা নদীর মাহাত্ম্য মহাভারত এবং পুরানে একাধিক গ্রন্থে উল্লেখিত আছে। এছাড়াও স্কন্দপুরাণেও এই নদীর মাহাত্ম্য সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকের মনের এই প্রশ্নটি উঠে যে সত্যিই কি গঙ্গা স্নান করলে সব পাপ ধুয়ে যায়?
আসুন আজ
জেনে নিই সেকথা।
পুরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, গঙ্গা তীরে একবার ভগবান শিব ও মাতা পার্বতী বিচরণ করছিলেন। সেখানে বিচরণ করতে করতে মাতা পার্বতী দেখেন যে গঙ্গা নদীতে হাজারো মানুষ স্নান করছেন এবং সেখান থেকে উঠের সময় শিবের নাম নিয়ে উঠছেন। তবে তারা গঙ্গা নদীতে স্নান করেও তাদের কারোর মুখে এক ফোঁটা হাসি নেই। এই বিষয়টি লক্ষ্য করেন মাতা পার্বতী এবং তাতে অবাক হন। তখন মাতা পার্বতী শিবকে প্রশ্ন করেন যে গঙ্গা তো পাপ নাশ করে তাহলে কেন এরকম মনে হচ্ছে আমার যে এই গঙ্গা স্নান করা মানুষগুলি তার পাপের কবল থেকে মুক্ত হয়নি। তাহলে কি গঙ্গা আর আগের মতো পবিত্র নেই। মাতা পার্বতীর এই প্রশ্ন শুনে ভগবান-শিব তাকে বলেন যে গঙ্গা আগের মতোই পবিত্র আছে তবে যেসব ব্যাক্তিরা এই গঙ্গায় ডুব দিয়ে স্নান করছেন তারা আসলে গঙ্গায় স্নানই করেনি। ভগবান শিবের কাছ থেকে মাতা পার্বতী এমন কথা শুনে কিছুই বুঝতে পারলেন না। তখন মাতা পার্বতী ভগবান শিবকে জিজ্ঞাসা করলেন যে এটা কি করে সম্ভব হয়? আপনার চোখের সামনেই কত মানুষ গঙ্গা স্নান করছেন এবং তাদের বস্ত্র এখনো ভেজা এটা কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন না? তখন শিব বললেন যে এইসব ব্যাক্তিরা শুধুমাত্র গঙ্গায় ডুব দিয়ে স্নান করছেন কিন্তু এরা প্রকৃতপক্ষে কেউই পবিত্র জলে স্নান করছেন না। আর তাঁর সাথে ভগাবান শিব বলেন যে এই রহস্য আজ নয় আগামী কাল তোমাকে বলব। এরপর ভগবান শিব ও মাতা পার্বতী সেই স্থান থেকে প্রস্থান করেন। তারপর পরের দিন খুব বৃষ্টি নামলো।
বৃষ্টির জন্য কাদায় ভরে গেল রাস্তাঘাট। এই সময় ভগবান-শিব একজন বৃদ্ধ মানুষের রূপ ধারণ করেন এবং একটি কাদায় ভর্তি গর্তে গিয়ে বসে পড়লেন। বৃদ্ধের বেশে থাকা ভগবান-শিব ওই কাদায় ভর্তি গর্তে থেকে বেরোনোর প্রচেষ্টা করতে লাগলেন। তখন মাতা পার্বতীকে ভগবান শিব বলেন, মাতা পার্বতী যাতে জোরে জোরে চিৎকার করে বলে যে হঠাৎ করে তাঁর বৃদ্ধ স্বামী গর্তে পড়ে গিয়েছে তাঁকে দয়া করে কেউ সাহায্য করুন প্রাণ রক্ষা করুন এবং এর সাথে এটাও বলতে বলেন ভগবান শিব যে যেই ব্যাক্তি তাঁকে বাঁচাতে আসবে সেই ব্যাক্তি যেন অবশ্য পুরোপুরিভাবে পাপমুক্ত হয় তাহলেই তাঁকে যেন হাত লাগায়। তা না হলে সেই ব্যাক্তি পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে। শিবের কথা শুনে মাতা পার্বতীও একজন সুন্দর নারীর রূপ ধারন করে বৃদ্ধের বেশে থাকা শিবের পাশে গিয়ে বসে জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে তাদেরকে সাহায্য করার জন্য। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন মানুষ গঙ্গা থেকে স্নান করে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সবাই ওই মহিলার কথা তো শুনছিলেন কিন্তু মহিলাকে দেখেই তাদের মধ্যে পাপের সঞ্চার হয় কিন্তু লোকলজ্জা ও ধর্মের ভয় তারা কেউ ওই মহিলার কাছে যান না।



পোস্টটি ভাল লাগলে মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না।
ReplyDeleteহরে কৃষ্ণ
Delete