গীতার অর্থ বুঝতে না পারলেও প্রতিদিন গীতা পাঠের অভ্যাস করে যেতে হবে।
দাদু তার নাতির সাথে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করতো। নাতি দেখত দাদু প্রতিদিন গীতা পাঠ করে। এটা দেখে নাতিও গীতা পড়তে লাগল, কিন্তু খুব কঠিন শ্লোক পড়তে সমস্যা হচ্ছে তার, আগা-মাথা কিছু বুঝছে না।
তখন নাতি তার দাদুকে বলল, দাদু তুমি প্রতিদিন কী করে আনন্দের সাথে গীতা পড়? তোমাকে গীতা পড়তে দেখলে মনে হয় তুমি অনেক খুশি মনে থাক। তা দেখে আমি তো মনে করেছিলাম গীতায় মজার এমন কিছু আছে, যা পরে তুমি কেবল আনন্দই পাও। কিন্তু আমি তো গীতা পড়ে কিছুই বুঝতে পারছি না দাদু, বরং আমি গীতাপাঠে নিরুৎসাহিত হয়ে গেছি।
দাদু নাতিকে একটা ধূলাবালি মাখা ময়লা বস্তা হাতে দিয়ে বলল, নাতি তুমি এক কাজ কর; তুমি এই বস্তাটা নাও আর নদী থেকে জল নিয়ে এস। নাতি তখন বস্তাটা নিয়ে নদীতে গেল আর বস্তার ভিতরে করে জল আনতে লাগল। নাতি জল আনতে আনতে বস্তা দিয়ে সব জল পরে যাচ্ছে।
দাদু তখন আবার চেষ্টা করতে বলল নাতিকে। কিন্তু সেবারও নাকি সফল হল না। এভাবে তিনবার চেষ্টা করার পর, নাতি দাদুকে বুঝাতে লাগল বস্তা দিয়ে জল আনা সম্ভব না। তখন দাদু নাতিকে বলল, আমি জানি বস্তা দিয়ে জল আনা সম্ভব না, কিন্তু দেখ তোমাকে যখন বস্তাটা দিলাম তখন বস্তাটা অনেক নোংরা ছিল, কিন্তু বার বার নদী থেকে জল আনতে চেষ্টা করার পরে এখন দেখ, বস্তাটা কত চকচক করছে।
শিক্ষাঃ ঠিক তেমনি গীতা না পড়তে পারলে, গীতা পড়ার চেষ্টা করলেও হৃদয়ের সমস্ত ময়লা নষ্ট হয়ে যাবে। গীতা পড়ার মাধ্যমে আমাদের হৃদয় শুদ্ধ হয়।
"প্রতিদিন জলে স্নান করে মানুষ নিজেকে পরিচ্ছন্ন করতে পারে। কিন্তু কেউ যদি ভগবদগীতার গঙ্গাজলে স্নান করে, তাহলে তার জড় জীবনের মলিনতা একেবারেই বিনষ্ট হয়ে যায় "।
"বুঝ না বুঝ পড় গীতা,
রোচক না রোচক খাও তিতা"।।
জয় শ্রী কৃষ্ণ।।
জয় মা গীতা।।



Comments
Post a Comment