শ্রাদ্ধ বাড়িতে খাবার উচিত নাকি উচিত নয় ?
অনেকেই বলে থাকেন, আমি গুরু দীক্ষা নিয়েছি তাই শ্রাদ্ধান্ন ভোজন করি না! ![]()
কেউ বলেন শ্রাদ্ধ বাড়িতে খাবার খেলে প্রেতের উদ্দেশ্য অন্ন খাওয়া হয় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর তাই শ্রাদ্ধবাড়ির খাবার খাওয়া উচিত নয়!
আবার কেউ এর থেকে ওপরে গিয়ে বলেন, মরার পর ভুরিভোজ খাওয়ানোটা একটা কুপ্রথা এটা বন্ধ করা উচিত।
কেউ কেউ আরও বলেন এসব ব্রাহ্মণদের ব্যাবসা, যে যাবার সে চলে গেল আর তার শ্রাদ্ধের নামে ব্রাহ্মণ পুরোহিতের চাল-কলা বাঁধার ব্যাবস্থা করে দিয়ে গেল।
আজকে সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দেব! অবশ্যই শাস্ত্রীয় তথ্য প্রমান অনুসারে।
প্রথমে
জানবো
শ্রাদ্ধান্ন
বলতে
কি
বুঝায়
? ![]()
শ্রাদ্ধান্ন বলতে বুঝায়, শ্রাদ্ধ বাসরে মৃতব্যক্তির অগ্নিদগ্ধার যে পিণ্ডদান তাকে অন্ন বলা হয়। কেবলমাত্র সেটিই শ্রাদ্ধান্ন যা প্রেতের পিণ্ডদানের পুর্বে দেওয়া হয় এবং এটি কেবলমাত্র দর্ভময় (কুশ) ব্রাহ্মণ ছাড়া কারো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় না। তাই শ্রাদ্ধবাড়ির যে ভোজন অন্ন, তা শ্রাদ্ধান্ন কোনমতেই নয়। সুতরাং, যে গুরু তার শিষ্যদের বলেন যে শ্রাদ্ধান্ন খাবে না, তার ক্ষুরে পেন্নাম জানাই।
এবার জানবো প্রেতের উদ্দেশ্য অন্ন কি? ![]()
প্রেতের উদ্দেশ্য সনাতন ধর্মের বর্ণ ভেদানুসারে
সেদ্ধচাল বা কাঁচা চালের গুঁড়ো অথবা আটা বা ময়দা দিয়ে কেবলমাত্র পিণ্ডদান করা হয়, তাকে অন্ন বলা হয় না, তাই যারা শ্রাদ্ধবাড়িতে খান তারা পিণ্ড তো খান না বরঞ্চ সেখানে পঙতি ভোজ সারেন। তাহলে শরিরের জন্য ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন কেন?
এবার
জানবো,
শ্রাদ্ধের
পর
ভুরিভোজ
কি
কুপ্রথা?
![]()
ম সমুদ্রায় শিশুমারানালভতে পর্জন্যায় মণ্ডুকান্।
অদ্ভ্যো মৎস্যান্ মিত্রায় কুলীপয়ান্ বরুণায় নাক্রান্।
(সূত্র: যজুর্ব্বেদ -২১ অধ্যায় ২৪ অনুবাক)
উক্ত বেদের বচনে প্রমানিত হয় শ্রাদ্ধে মনুষ্যদের ভোজন না করালে প্রেতাত্মা নরকে যাবে ! তাহলে যে মারা গেল তার পরকালের উদ্ধার না করতে চাইলে অবশ্যই এটা কুপ্রথা মনে হবে।
এবার জানবো শ্রাদ্ধের নামে ব্রাহ্মণের চাল-কলা বাঁধা কতটা যুক্তিযুক্ত ? ![]()
পিতৃদেবাদিশেষশ্চ শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণকাম্যয়া।
প্রোক্ষিতঞ্চৌষধার্থঞ্চ খাদন্ মাংসং ন দুষ্যতি।।
(সূত্র: মার্কণ্ডেয়পুরাণম্ ৩৫ অধ্যায়)
শ্রাদ্ধে পিতৃদেবতাদের উদ্দেশ্য দান করার পর যা শেষ বা অবশিষ্ট থাকবে তা গ্রহন করলে বা খেলে ব্রাহ্মণ দোষী হবে না।
শ্রাদ্ধবাড়িতে খাবার বা আমিষ খাবার খেলে কি হবে! ![]()
পৈতৃকর্মে মাংস ভক্ষণমাত্রেণ সাক্ষান্নারায়ণো ভবেৎ।
তদা মৎস্যভক্ষণমাত্রেণ কালী প্রত্যক্ষতানিয়াৎ।।
(সূত্র: নির্ব্বাণতন্ত্র ১১ পটল)
শ্রাদ্ধ বাড়ির ভোজনে মাংস ভক্ষণ দ্বারা সাক্ষাৎ নারায়ণ তুল্য হওয়া যায় আর মৎস্য (মাছ) ভক্ষণ দ্বারা কালীর দর্শন করা যায়।।
তাহলে ভেবে দেখুন বর্তমানের বাবাজীরা কেন শ্রাদ্ধবাড়িতে খেতে নিষেধ করেন?
এবার আসুন সকলে জেনে নিই কেন সনাতন শাস্ত্র মতে ব্রাহ্মণ ভোজন করাবেন বা ব্রাহ্মণ ভোজন করালেই বা কি হবে? ![]()
বিপ্রভোজনমাত্রেণ কার্যঙ্গং সাঙ্গং ভবেদধ্রুবং ।
যদ্যদ্ভুঙক্তে দ্বিজঃ সাক্ষাদ্ভুঙক্তে হরিঃ স্বয়ং ।।
(সূত্র: বশিষ্টসংহিতা )
অর্থাৎ, ব্রাহ্মণ ভোজন মাত্রে অঙ্গহীন কার্য্য সম্পূর্ণ হয়। যে যে দ্রব্য ব্রাহ্মণগণ ভোজন করেন তৎসমুদায় শ্রী হরির ভোজন হয়ে থাকে।।
দেবাভুজ্ঞন্তি হব্যানি বলিং প্রেতাদয়োহ সুরাঃ।
পিতরো হব্যানি বিপ্রস্যৈব মুখাদ ধ্রুবম্।।
(সূত্র: ভবিষ্যপুরাণ।।)
অর্থাৎ, ব্রাহ্মণের মুখ দিয়ে দেবগণ হব্য, প্রেতাদি অসুরগণ বলি এবং পিতৃগণ কব্য ভোগ করে থাকেন।।
শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণ ভোজনের আরেকটি বিশেষ কারন জেনে নিন: ![]()
প্রেতশ্রাদ্ধোক্ত বিধিনা শ্রাদ্ধং কৃত্বাতি ভক্তিতঃ।
ব্রহ্মজ্ঞান্ ব্রাহ্মণান্ কৌলান্ ক্ষুধিতা ভোজয়েৎ।।
((সূত্র: মহানির্ব্বাণ তন্ত্র, দশম উল্লাস, শ্লোক - ৯২)
অর্থাৎ, শাস্ত্র বিধিবৎ ভক্তিসহকারে শ্রাদ্ধশান্তি করার পর বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ ভোজন করালে আত্মার ক্ষুধা শান্ত হয়।
সকলে শেয়ার করে সঠিক বিষয়টি জানানোর প্রচেষ্টা করুন।।
![]()


Comments
Post a Comment