সনাতনীরা নমস্কার বলতে লজ্জাবোধ করে কেন?

অফিসের একজন সিনিয়র স্যারকে দেখি কেউ ফোন দিলেই সালাম দেয়, অফিসের অনেক সনাতনীকে দেখি কেউ ফোন দিলেই সালাম দেয় (যদিও অনেক সময় পাশের মুসলিমরা হাসে আর ওনাকে বলে হরেকৃষ্ণ বলতে পারেন না)। আমার সনাতনী অফিস সহকর্মীদের আমি অফিসের ফোনে কল দিলে তারা আমাকে সালাম দেয়। তখন সাথে সাথে আমি তাদের বলি- আপনি হিন্দু, আমি হিন্দু, তাহলে আমাকে নমস্কার না দিয়ে সালাম দিলেন কেন?

বিশ্বাস করেন, তখন ওরা রাম ছাগলের মতো হাসেন, ওনাদেরতো এতে লজ্জা হওয়া উচিৎ, অথচ খুশির তরঙ্গে হাসেন!

মেসে আমার রুম মেট, কথায় কথায় বলে পানি, গোসল। যতবারই শিখিয়ে বা বলে দেই জল বলবেন স্নান বলবেন, না বলে না, শুধরানো সম্ভব নয়, মনে হয় এ যেন কোন বিদেশী কঠিনতম ভাষা!

আমার নাম্বার সেভ নেই (আমি মনে করি) এমন অনেককে ফোন দিলে তারা আমাকে সালাম দেয় বা দেন এটা কেন? আমি বলছি না সালাম দেওয়া যাবে না, কিন্তু একজন সনাতনী হয়ে আপনি কেন আমাকে/একজন সনাতনীকে সালাম দিবেন? পারেন না নমস্কার বলতে? পারেন না হরেকৃষ্ণ কিংবা আপনার ইষ্ট দেবতার নাম নিতে? আপনার কাছ থেকে আপনার স্বামী/স্ত্রী, সন্তান অন্যরাও শিখবে এমনটাই চান না? চান না আপনার সনাতনী শব্দগুলো ব্যবহার করতে?


শব্দগুলো ব্যবহার করেই দেখুন কত সুন্দর শব্দগুলো, কত প্রশান্তি পাবেন ওসব শব্দে।আপনি পিতা হলে পুত্র কিংবা কণ্যাকে নমস্কার বলুন, স্বামী হলে স্ত্রীকে নমস্কার বলুন।ভাই হলে বোনকে কিংবা বোন হলে ভাইকে নমস্কার বলুন। মোট কথা আপনি বড় কিংবা ছোট যাই হউন না কেন, আপনার চেয়ে বয়সে বড় কিংবা ছোট যাই হউক না কেন তাকে নমস্কার দিন বা বলুন। দেখবেন পরবর্তীতে সেও আপনাকে নমস্কার দেওয়া শুরু করবে।

তাই সকল সনাতনী ভ্রাতা ও ভগ্নী, আমার পরম পূজনীয় গুরুজন সকলের শ্রী চরণে প্রণতি নিবেদন করে বলছি, আপনারা আমাদের সনাতনী শব্দগুলো ব্যবহার করুন। নমস্কার/হরেকৃষ্ণ কিংবা আপনার ইষ্ট দেবতার নাম বলতে শিখুন, এমনকী একজন অন্য ধর্মের লোককেও নমস্কার বলুন, এতে অন্য ধর্মের লোকও আপনাকে সম্মান করবেন, ভালবাসবেন।

কৃপা করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আমার লেখার মাধ্যমে আপানাদের সামান্যতম উপকার হলে নিজেকে ধন্য মনে করব।

সকলকে নমস্কার।

হরে কৃষ্ণ ।


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

লোকনাথ ব্রহ্মচারী এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

সমবয়সী কিংবা বয়সে ছোটদের নমস্কার দেওয়া উচিত?

অষ্ট সখী সম্পর্কে অজানা এ তথ্য জানেন তো?