মাকে নিয়ে কিছু কথা:

চোখ বন্ধ করে যদি কাউকে বিশ্বাস করা যায় তাহলে সেই মা। এই পৃথিবীতে একমাত্র মায়ের ভালবাসাই নিঃস্বার্থ হয়। অন্য কারো সাথে মায়ের তুলনা করা নিত্যান্ত বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। মায়ের তুলনা কেবল মা-ই হয়।


এই জগৎ সংসারে আপনার চারপাশে হয়ত অনেক প্রিয়জন থাকে, তারা আপনাকে ভালবাসে, আপনার সর্বদা মঙ্গল কামনা করে, তথাপি যার মা নেই, মায়ের ভালবাসা নেই, তার সব সুখ-ই বৃথা। মায়ের মত করে ভালবাসতে কেউ কখনোই পারে না।

 

দশমাস দশদিন মা তার গর্ভে স্বযত্নে ধারণ করে শত দুঃখ-কষ্ট ভোগ করে তার রক্ত-মাংস দিয়ে সন্তানকে পৃথিবীতে ভূমিষ্ট করায়। প্রসব বেদনা কতটা বেদয়াদায়ক একমাত্র মা-ই জানে।  তবুও মা তার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর বুকে তুলে সব দুঃখ, ব্যাথা ভুলে তার কোমল স্নেহে বুকের দুদ্ধ পান করিয়ে সন্তানকে শান্ত করান। সন্তান জন্মের সময় মা ডাক্তারকে বলে থাকে আমার যা হবার হউক, আমার সন্তান যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকে। বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু কেউ এমন ত্যাগ স্বীকার করে না মায়ের মত করে।

 

একজন মা-কে যদি প্রশ্ন করেন আপনার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি? তিনি নিঃধিদ্বায় বলবেন, আমার সন্তান। সন্তানের জন্য পারে না এমন অসাধ্য কাজ মায়ের নেই। সন্তানের কল্যানের জন্য মা সব কিছু হাসি মুখে বরণ করতে কুন্ঠিত হন না। মায়ের কাছে ছেলে-মেয়ে, স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক, কালো-সাদা সবাই সমান। তার কাছে একজন সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান যেমন আদরনীয় ঠিক তেমনি একজন প্রতিবন্ধী, অসুস্থ সন্তানও। মায়ের কাছে তার সকল নাড়ীছেঁড়া ধন অতিমূল্যবান এমনকী অন্য সকল বস্তু চেয়েও অধিক প্রিয়। কালো-বেটে, কুৎসিত, বধির, অন্ধ এমনকী তৃতীয় লিংঙ্গের সন্তান অন্য সবার কাছে যারা অপ্রিয়, মায়ের কাছে তারাও সবচেয়ে প্রিয়।

 

এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ডাক্তার হচ্ছেন মা। অসুস্থ হলে মায়ের মত করে কোন সেবিকা এমন যতেœ সেবা করতে পারে না। সন্তানের সামান্য অসুখে মা ব্যাকুল হয়ে উঠেন। সন্তানকে নিরন্তন সেবা শশ্রুষা করে সুস্থ হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মায়ের চোখে ঘুম থাকেনা, রাত-দিন সন্তানের পাশে থেকে সন্তানকে সুস্থ করে তুলেন। এমন সময় মা সর্বদা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন তার সন্তান যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। সন্তানের প্রয়োজনে মা তার শরীরের রক্ত, কিডনী, চোখসহ প্রয়োজনীয় সকল অংঙ্গ দিতে সব সময় প্রস্তুত থাকেন। এমনকি সন্তানের কঠিন পরিস্থিতির সময় মা স্রষ্টার কাছে নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য প্রার্থনা করেন।


 

মা, মা, মা! এত সুমধুর শব্দ যেমন নেই, এমন মমতাময়ীও আর কেউ নেই। যার মা নেই তার জীবনের প্রাপ্তিও কম থাকে। আমার কাছে আমার মা-ই আমার পৃথিবী। আমার আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের হাতছানি। ছোট বেলা থেকে যার অনুপ্রেরণায় আমি প্রতিনিয়ত সাফল্যের দ্বারে ধাপে ধাপে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, হচ্ছি। মায়ের ভালবাসা আর অনুপ্রেরণা পেলে সন্তানের সাফল্য পেতে আর কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না। মায়ের আশির্বাদ থাকলে সন্তান অনায়াসে সকল বাঁধা-বিপত্তি থেকে সহজে মুক্তি লাভ করে পরম সাফল্য লাভ করে থাকে, তার চরম উদাহরণ আমি নিজে। আমি মনে করি প্রত্যেক সন্তানের তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি ও ভালবাসা থাকা একান্ত প্রয়োজন।

 


মায়ের ঋণ কখনো কোন কিছু দিয়ে শোধ করা যায় না। মাকে ভালবাসার মধ্যে দিয়ে, মায়ের সেবা করে, মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে হয়ত তার প্রিয় হওয়া যায়, তার আস্থা অর্জন করা যায়। এটাই প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। মা বেঁচে থাকতে মায়ের সেবা করা উচিত। মা বড় ধন, হারালে বুঝিবে কি ছিল মা মানিক- রতন

 

পরিশেষে আমার মায়ের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। সকলের কাছে অনুরোধ আপনারা নিজ নিজ মাকে ভালবাসুন, মায়ের সেবা করুন, মায়ের কথা শুনুন, তাহলে এটা নিশ্চিত যে আপনি জীবনে কখনো বিফল হবেন না, সাফল্য আপনার আসবেই

বিশ্ব “মা দিবস” এ সকল মায়ের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা  রইল। মাকে  শুধু এই একদিনই নয়, প্রতি মুহূর্তে ভালবাসুন, শ্রদ্ধা করুন। বেঁচে থাকুক প্রতিটি মা, প্রত্যেকটি সন্তানের হৃদয়ে অনন্তকাল।

Comments

Popular posts from this blog

লোকনাথ ব্রহ্মচারী এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

সমবয়সী কিংবা বয়সে ছোটদের নমস্কার দেওয়া উচিত?

অষ্ট সখী সম্পর্কে অজানা এ তথ্য জানেন তো?