কেন আমরা ভগবানকে দুধ অর্পণ করি ? কেন সে দুধ গরীবদের মাঝে দান করা হয় না ?
ভক্তঃ-
জগৎগুরু
শঙ্করাচার্য্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতী'জীঃ- হিন্দুদের
ধর্মগ্রন্থ গুলোতে কোথাও কি লেখা আছে, গরীবদের ধন দেওয়া নিষেধ ? বরং
শাস্ত্রে বলা আছে,,,
"দেয়ং
দীন জনায় চ বিত্তম্" — গরীবদের ধন দান করা কর্তব্য। কিন্তু
আপনি ভগবানকে সবচেয়ে বড় গরীব মানেন নাকি সবচেয়ে বড় ধনী মানেন ?
শ্রীমদ্ভাগবত
পুরাণে একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। খুব মনযোগ সহকারে শ্রবণ করুন,,,
আমি
আপনাকে আমার জীবনের একটি গল্প বলছি,,,, আমি তখন লেখাপড়ার সুবাধে দিল্লিতে
থাকতাম। একদিন আমার বড় ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "সূর্য ভগবানকে
জল অর্পণ করো ?"
আচ্ছা,
ভগবানকে দুধ, ফল-মূল অর্পণ করবার পর সেগুলো গরীবদের
মধ্যে বিতরণ করতে আপনাকে কি কেউ বাঁধা দেয় ? আপনি যদি
ভগবানকে ফল-মূল, দুধ ইত্যাদি নিবেদন করেন তখন কি তা কমে যায়
নাকি অপরিবর্তিত থাকে ? কমার তো প্রশ্নই আসেনা। তাহলে ভগবানকে
নিবেদন করে তারপর সে নিবেদিত বস্তু প্রসাদরূপে গ্রহণ করলেই তো হয়। ভগবানকে যখন
খাদ্য বস্তু অর্পণ করা হয়, তারপর ভোগ লাগানোর পর যখন তা বিতরণ করা
হয় তখন কি কোথাও বলা হয়েছে গরীবদেরকে তা বিতরণ করা যাবে না ?
ভগবানকে
খাদ্য দ্রব্য অর্পণ করবার অর্থ হলো সেই খাদ্যদ্রব্য প্রসাদরূপে নিজেকে এবং
অন্যদেরকে প্রাপ্ত করানো। যখন আপনি বৃক্ষের মূলে জল প্রদান করবেন তখন সেই বৃক্ষের
পাতা সতেজ হবে কি হবে না ? তাই যিনি সবার উদ্গম স্থল সেই
সচ্চিদানন্দ স্বরূপ সর্বেশ্বর পরমাত্মাকে আমরা যা অর্পণ করি অন্তে তা আমাদেরই
প্রাপ্ত হয়।
এবার
আপনার মনে এই প্রশ্নও উদিত হতে পারে যে, গরীবদের ঘি আদি
দ্রব্য সামগ্রী না দিয়ে অগ্নিতে কেন আহুতি দেওয়া হয় ? আচ্ছা আগে বলুন,
কোথাও কি নিষেধ করা হয়েছে যে গরীবদের ঘি দান না করতে ? হ্যাঁ
আপনি প্রশ্ন করতে পারেন ইন্দ্রায় স্বাহা...... ইত্যাদি মন্ত্র বলে অগ্নিতে কেন ঘি
ঢেলে অপচয় করা হয় !
প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞানের যথাযথ জ্ঞান না থাকার দরুন এসব প্রশ্ন উদিত হয়। আমরা যখন অগ্নিতে আহুতি দেই তখন সেই আহুতি অগ্নির কিরণে একীভূত হয়ে যায়। এবং দেবতার নিমিত্ত ঐ আহুতি হয়, ফলতঃ তা দেবতাদের দিব্য আহারে পরিণত হয়ে সূর্য মন্ডলে গিয়ে মেঘরূপে বর্ষিত হয়। তাই গীতার তৃতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে,,, "যজ্ঞাদ্ভবতি পর্জন্যো"। এইজন্যই দেবতা শব্দের অর্থই হলো যিনি প্রদান করেন। তাই দেবতাদের কোন কিছু নিবেদন করবার অর্থ এটা না যে, গরীবদের দেওয়া যাবেনা। আমাদের এখানে যজ্ঞোপবীত সংস্কার, বিবাহ, যজ্ঞ ইত্যাদি অনুষ্ঠান রয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে তো সবাইকেই সাধ্যমতো ভোজন করানো হয়।
দেখুন আমাদের পূবপুরুষরা এমন এমন প্রকল্পের অনুষ্ঠান করেছিলেন যার দ্বারা বহু ব্যক্তির অন্নের সংস্থান হতো। আচ্ছা, জগন্নাথ মহাপ্রভুর দর্শন করবার জন্য হাজার হাজার ব্যক্তির প্রতিদিন আগমন ঘটে। এবার জগন্নাথ মহাপ্রভুকে যে ভোগ লাগানো হয় তা কোথায় যায় ? দিনশেষে তা ভক্তদের নিকট প্রদাসরূপে প্রেরিত হয়। আচ্ছা, তিরুপতি বালাজি, কাশী, গয়া ইত্যাদি তীর্থের যারা দর্শন করতে যান তাদের জন্য কি বাস, ট্রেন ও ব্যবসায়ীদের লাভ হয়না ? তাই প্রত্যেক বিষয়ের গভীরে ঢুকে অনুসন্ধান করা উচিত।
Comments
Post a Comment