শ্রী পঞ্চমীতে/সরস্বতী পূজার সময় কি হাতে খড়ি বা বিদ্যা আরম্ভ করা উচিৎ ?
চিরকাল দেখে এসেছি- সরস্বতী পূজার দিন হাতে খড়ি।
শ্রী পঞ্চম্যাং লিখেন্নৈব ন স্বাধ্যায়নং
কদাচন।
বাণীকোপমবাপ্নোতি লিখনে পঠনেহপি চ।
শ্রীপঞ্চমীতে
লিখিবে না, পড়িবে না ।
"সরস্বতী পূজার দিন লেখা-পড়া নিষেধ...... এই দিন হাতে খাড়ি টা সম্পূর্ন অশান্ত্রীয়৷ হতে খাড়ির জন্য অন্য দিন আছে, তাকে বিদ্যারম্ভ বলে। সেটি হিন্দু ধর্মের দশবিধ সংস্কার এর মধ্যে একটি ৷
বিদ্যারম্ভের দিন আলাদা ভাবে পঞ্জিকায় থাকে, বাণী বন্দনার দিন বিদ্যারম্ভ করা অশাস্ত্রীয়।
সরস্বতী পূজার সময় বা কাল নির্নয়ঃ
"মাঘে মাসি সিতে পক্ষে পঞ্চমী যা
শ্রিয়ঃ প্রিয়া।
তস্যা পূর্বাহ্ন এবেহ কার্য্যঃ
সারস্বতোৎসবঃ।।"
মাঘ
মাসে (কখনও কখনও ফাল্গুল মাসে; যেমন
এই বছর) শুক্ল পক্ষের পূর্বাহ্নকালিন পঞ্চমীতিথিতে সারদোৎসব করতে হবে। এখানে
সারদোৎসব অর্থে সরস্বতীপূজার কথা বলা হয়েছে। দেবীর অপর নাম সারদা।
পূর্বাহ্ন
অর্থে দিনের সূর্যোদয় তথা তিন ঘন্টা। অর্থাৎ যদি সূর্যোদয় ৬টায় হয়, তবে পূর্বাহ্নকাল সকাল ৬-৯টা পর্যন্ত।
অর্থাৎ এই ৯টার মধ্যে দেবী সরস্বতীর পূজা বা শ্রীপঞ্চমীকৃত্য অথবা লেখনী মাস্যাধার
পূজা সমাপ্ত করতে হবে এটাই শাস্ত্রীয় নিয়ম ও বিধান।
ধরা
যাক, ২২ই মাঘ পঞ্চমী আরম্ভ হয়েছে সকাল ১০টায়
এবং ২৩ই মাঘ পঞ্চমী শেষ হচ্ছে সকাল ৮টায়। তবে এক্ষেত্রে ২৩ই মাঘই শ্রীপঞ্চমী তথা
সরস্বতী পূজা হবে।
আবার, যদি ২২ মাঘ সকাল ৮:৩০/৮:৪৫ পঞ্চমী
আরম্ভ হয়েছে এবং পরের দিন ২৩ই মাঘ পঞ্চমী শেষ হচ্ছে সকাল বা ভোর ৫/৫:৩০/৬ এমন সময়, তবে সেক্ষেত্রে পূর্বদিন অর্থাৎ ২২ই
মাঘ পূর্বাহ্ন পাওয়ার জন্য ২২রা মাঘেই পূজা হবে।
উভয়
ক্ষেত্রে সূর্যোদয় ৬ ঘটিকা ধরা হলো।
আমরা দেখি বা দেখে আসছি যে সরস্বতীপূজোর দিন আমরা হাতে খড়ি করিয়ে থাকি। তবে এই নিয়মটি সম্পূর্ণ ভুল একটি প্রচলিত প্রথা।
বলা
হচ্ছে,
"পঞ্চম্যাং পূজয়েল্লক্ষ্মীং
পুষ্পধূপান্নবারিভিঃ।
মস্যাধারং লেখনীঞ্চ পূজয়েন্ন
লিখেত্ততঃ।।"
অর্থাৎ, মাঘ(কখনও ফাল্গুনমাসে) মাসের
শুক্লাশ্রীপঞ্চমীতে পুষ্প-ধূপ-অন্ন-জলাধার দ্বারা দেবী লক্ষ্মী সহ মস্যাধার-লেখনীর
পূজা করিবে। তথাপি লিখিবে না। এখানে "পূজয়েন্ন লিখেত্ততঃ" এটির অর্থাৎ
পূজা করবে কিন্তু লিখিবে না।
অর্থাৎ
হাতেখড়ি সরস্বতীপূজার দিন বা শ্রীপঞ্চমীতে নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয়
প্রমাণ,
"শ্রীপঞ্চম্যাং লিখেন্নৈব ন স্বধ্যায়ং
কদাচন।
বানীকোপমবাপ্নোতি লিখনে পঠনে অপি চ।।"
অর্থাৎ
শ্রীপঞ্চমীতে লিখিবে না এবং পড়িবেও না। ঐ তিথিতে লিখলে বা পড়লে সরস্বতী কোপভাজন
হন।
অর্থাৎ
শ্রীপঞ্চমীতে হাতেখড়ি বা বিদ্যারম্ভ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
তাহলে হাতেখড়ি কবে হবে??
পঞ্জিকায়
বিদ্যারম্ভ বলে তারিখ দেওয়া থাকে উক্ত দিনে গনেশাদি দেবতার পূজা করে লক্ষ্মী-সরস্বতী, নারায়ণসহ যথাশক্তি নিয়ম পূর্বক পূজা
করে হাতেখড়ি বা বিদ্যারম্ভ করতে হয়।
জয় দেবী সরস্বতী।
ReplyDelete