অসৎ সঙ্গে নরক বাস, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস।।
একসময়
গোবর পোকা ও ভ্রমরের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব হলো। ভ্রমর একদিন গোবর পোকাকে বলল, “বন্ধু
তুমি অনেক কষ্ট করো আর গোবরের ময়লা খেয়ো থাক, আমার সাথে চলো, আমি বিভিন্ন ফুলের মধু
খাই। কী যে মিষ্টি আর স্বুস্বাদু মধু, তুমি যদি একবার তা খাও তাহলে, তোমার এ জগতের আর অন্য কিছু
খেতে মন চাইবে না”।
চলো তুমিও ফুলের মধু খাবে।
এভাবে অনেক বোঝানোর পর ভ্রমর অনেক কষ্টে গোবর
পোকাকে রাজি করিয়ে গোবর পোকাকে নিয়ে গেল। দুই বন্ধু মিলে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে
মধু খেতে শুরু করে দিল। মধু পেয়ে গোবর পোকা ভাবছে, বাঃ এতো খুব স্বাদ! তাই আরো বেশি বেশি করে খেতে শুরু করে
দিল। মধু খেয়ে একসময় তার নেশা হয়ে গেল। তখন গোবর পোকাটি নরম ফুলের মধ্যেই ঘুমিয়ে
পড়ল। আর ক্রমশ সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল।
সন্ধ্যার সময় প্রাকৃতিক নিয়মেই পদ্ম ফুলের পাপড়ি বুজে যায় বা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।গোবর পোকাটি
যে ফুলটিতে ঘুমিয়েছিল সেই ফুলটিও বুজে গেল আর ভ্রমরটি গোবর
পোকাকে বিভিন্ন যায়গায় খুঁজে দেখতে না পেয়ে তার নিজের বাসায় চলে গেল। পরদিন সকালে এক ভক্ত পদ্মফুল তুলতে এসে অনেক ফুলের সাথে গোবরপোকা ঘুমিয়ে থাকা সেই ফুলটিও তুলে নিয়ে
গেল ভগবানের পুজোর উদ্দেশ্যে। গোবর পোকা কিন্তু তখনও ফুলের মধ্যেই। এদিকে ভক্ত সেই
ফুলটি চন্দন চর্চিত করে ভগবানের শ্রীচরণে অর্পন করলেন। কিছু সময় পর যখন ফুলটি যখন
প্রস্ফুটিত হল তখন গোবর পোকা ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে দেখে আমি কোথায় এলাম, আমি তো ভগবানের চরণে।
আমি একটা গোবর পোকা যার স্থান ছিল পচা
দুর্গন্ধ গোবরের মধ্যে, সেই আমি কিনা আজ জগৎপতির চরণে। মনে মনে ভাবতে লাগল, আজ যদি ভ্রমরের সঙ্গ না ধরতাম তাহলে
হয়তো কোনোদিন ভগবানের শ্রীচরণ স্পর্শ তো দূরের কথা, আমি কোনোদিন তাঁর দর্শনও পেতাম না।
তাই মহাজনেরা বলছেন, “সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়, লব মাত্র সাধু সঙ্গে সর্ব্ব সিদ্ধি হয়"।
এখানে দেখুন সাধু সঙ্গের জন্যই কিন্তু
আজ গোবর পোকার সিদ্ধি লাভ ঘটল। তাই অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করুন। অসৎ সঙ্গ শুধু নীচু পথেই
নামায় না, অসৎ সঙ্গের ফলে আপনার আমার জীবনে একদিন
যে ভয়ঙ্কর বিপদ নেমে আসবে তা একদম নিশ্চিত। কারণ এদের গতি সবসময় নীচের দিকে,এরা কোনোভাবেই উপরের দিকে উঠতে সাহয্য
করেনা।
নীচে নামানোর প্রাণপন চেষ্টাই চালিয়ে
যায়। সুন্দর ফুল তো অনেক ফোটে কিন্তু সবাই ভগবানের চরণে নিবেদিত হয় কি? কেউ মৃতদেহের ওপর, কেউ আবার গাছেই শুকিয়ে মাটিতে ঝরে পরে।
নিজেকে কোন পথে
পরিচালিত করবেন সেই রুচিটা সম্পূর্ণ নিজের।
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে
হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে"।।
শ্রদ্ধেয় কৃষ্ণ ভক্ত, কৃষ্ণ কথা গুলো আমরা সংগ্রহণ করি
শুধু মাত্র আপনাদের মাঝে কৃষ্ণ প্রেম ভক্তি জাগানোর জন্য। যাতে করে সবাই
নিজের ধর্মের কথা জানতে পারে ও কৃষ্ণ প্রেম ভক্তি হৃদয়ে জাগ্রত হয়। আমার যে কোনো রকম ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর
দৃষ্টিতে দেখবেন। হরে কৃষ্ণ......
Comments
Post a Comment