শুধু ভগবানকে চাইলে তাঁর সকল কৃপাও পাওয়া সম্ভব।
একদিন রাজদরবারে
রাজা ঘোষণা করলেন, রাজার ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে যে যা চাইবে রাজা তাকে
তাই পুরস্কার দিবেন। সারা রাজ্যের লোক জানতে পারল রাজার এ ঘোষনার কথা।
সবাই যার যার মত করে প্রস্তুতি নিল রাজার কাছে তাদের চাহিদার কথা জানানোর জন্য। কাঙ্খিত দিন চলে এল। রাজপুত্রের মহা ধুম ধামে জন্মদিন পালন হলো। রাজ্যের সব লোক খেয়ে-দেয়ে রাজার কাছে তাদের চাহিদা প্রকাশ করে জিনিসিপত্র নিয়ে গেল। অবশেষে রাজ্যের এক বুড়ি এল রাজ দরবারে।
রাজাকে বুড়ি বলল: আপনি তো সবার ইচ্ছে পূরণ করলেন। আমার ইচ্ছা কি পূরণ করবেন?
রাজা বলল: হ্যাঁ, অবশ্যই পূরণ করব। বল তুমি কী চাও?
বুড়ি বলল: আমি বৃদ্ধ মানুষ, কিছু দিন পরে হয়তো মরে যাব। আমি তেমন কিছু চাইনা। আমার কেবলমাত্র একটা ইচ্ছেই আছে।
রাজা বললেন: বল বুড়ি কী তোমার ই্চ্ছে? আমি তোমার ইচ্ছে পূরণ করব।
বুড়ি বলল: তাহলে একদিন আমার বাড়িতে আপনার পদ ধূলি চাই, আপনাকে আমার ঘরে বসিয়ে কিছু খেতে দিতে চাই, এটাই কেবল আমার ইচ্ছে, আমার আর কিছু চাই না।
রাজা বললেন: ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা পূর্ন করব। আমি কয়েক দিনের মধ্যেই তোমার বাড়িতে গিয়ে তোমার ঘরে
বসে তোমর দেওয়া খাবার খেয়ে আসব ।
বুড়ি রাজার কথায় অনেক খুশি হলো। বুড়ি খুশি হয়ে রাজার জয় জয় করতে করতে তার
নিজের বাড়ি চলে গেল।
রাজা কয়েকদিন পরে মন্ত্রীদের ডেকে বলল, আমি
আগামীকাল ঐ বুড়ির বাড়ি যাব সব ব্যবস্থা কর গিয়ে।
মন্ত্রী সব খোঁজ খবর নিয়ে রাজাকে বলল: রাজা মহাশয়, বুড়ির বাড়ি রাজপ্রসাদ হতে অনেক দূরে,
যাওয়ার একমাত্র রাস্তটিও ভাল নয়। আপনি বুড়ির বাড়ি গেলে আপনার সাথে
কত লোকজন যাবে, সৈন্য-সামন্ত যাবে। আপনি যেতে হলে আগে বুড়ির
বাড়ি যাওয়ার রাস্তটি মেরামত করতে হবে।
রাজা বললেন: তা যা করতে হয় তাই কর।
রাস্তা মেরামত করা হলো। মন্ত্রী
জানালো, রাজা মহাশয় রাস্তাতো হলো, বুড়ির বাড়ি
যেতে ছোট একটি খাল পাড় হতে হয়, খালে জল কম থাকে। তাতে নৌকাও
চলে না, শুকনায় ও
যাওয়া যায় না। খালে কী করব? রাজা বলল, তো একটা সেতু করে দাও, আমি কথা দিয়েছি বুড়িকে আমাকে বুড়ির বাড়ি যেতেই হবে।
খালে সেতুও করে দেওয়া হলো।
এবার মন্ত্রী জানালো, আপনি বুড়ির ঐ ছোট কুড়ে ঘরে কেমন করে বসবেন গিয়ে?
রাজা বলল: তো বুড়ির জন্য এমন একটা ঘর তুলে দাও, যাতে আমি গিয়ে বসতে পারি।
এবার মন্ত্রী বলল: আপনি রাজা যেই-সেই যায়গায় তো বসতে পারবেন না, আপনার জন্য তো উপযুক্ত একটা সিংহাসন বানানো প্রয়োজন?
রাজা বলল: হ্যাঁ হ্যাঁ তাই কর। আর যা যা আসবাবপত্র ঘরে প্রয়োজন সব দ্রুত তৈরী করে দাও বুড়ির ঘরে।
এবার মন্ত্রী বলল: রাজা বুড়ির তো কিছু নাই, সে কি না কি খেতে দেয়, আপনি গেলে ভাল খেতে দিতে পারে, এমন কিছুর ব্যবস্থা করে দেওয়া প্রয়োজন না?
রাজা বলল: হ্যাঁ, ভাল ভাল খাবার আয়োজন করবে সেদিন। আর রান্নার জন্য ভাল ভাল পাচকদের খবর দিও বুড়ির বাড়িতে।
এভাবে রাজার কথামত বুড়ির বাড়িতে সব আয়োজন করা হলো। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবার পর মন্ত্রী রাজাকে বলল: রাজা মহাশয়, এবার বুড়ির বাড়িতে আপনি যেতে পারেন, এখন আপনার কোন অসুবিধা হবে না বুড়ির বাড়িতে।
রাজা বলল: তাহলে আগামীকালই চলো আমরা বুড়ির বাড়িতে যাব।
পরের দিন রাজা সৈন্য-সামন্ত, পাক-পেয়াদা ও মন্ত্রীদের নিয়ে বুড়ির বাড়িতে গেল। সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য রাজার কোন অসুবিধাই হলো না যেতে।গিয়ে রাজা বসলেন রাজ সিংহাসনে। চারদিকে আলো আর সুগন্ধি সুবাস ছড়াচ্ছিল, যা আগে থেকে মন্ত্রী ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন।
বুড়ি রাজাকে প্রণাম করে নিজ হাতে ভাল ভাল খাবার খেতে দিল আর বুড়ির কথা রাখার জন্য রাজাকে ধন্যবাদ দিল।
নীতি শিক্ষা: সকল প্রজার মত না হয়ে বুড়ির মত বুদ্ধিমান হতে হবে। তাহলে সকল কিছু এক চাওয়াতে পূর্ণ হবে।
শিক্ষা: ভগবানের কাছে কিছু চাইতে নেই, চাইলে কম পাওয়া যায়(অন্য প্রজাদের মত)। তাই কেবল ভগবানকে চাইতে হবে (বুড়ির মত)। ভগবানই বুঝতে পারেন, তার ভক্তের কখন কী কী প্রয়োজন।
শিক্ষা মূলক গল্প ❤️🙏
ReplyDeleteধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য আপনাকে।
Delete