স্বামী বিবেকানন্দ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক,
সংগীতজ্ঞ এবং রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রধান শিষ্য।
স্বামী বিবেকানন্দ এক উচ্চবিত্ত কায়স্থ দত্ত পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ১২ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার সিমলা
অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
বিবেকানন্দের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত (ডাকনাম ছিল বিলে)।
তার পিতা বিশ্বনাথ দত্ত কলকাতা উচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন। তার নয় জন
ভাই-বোন ছিল।
ছেলেবেলা থেকেই শিব, রাম, সীতা ও মহাবীর হনুমানের মূর্তির সামনে
তিনি প্রায়ই ধ্যানে বসতেন। সাধু-সন্ন্যাসীদের প্রতিও তার
বিশেষ আগ্রহ ছিল। ছেলেবেলায় বিবেকানন্দ অত্যন্ত দুরন্ত ছিলেন।
১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে পরিব্রাজকরূপে মঠ ত্যাগ করেন বিবেকানন্দ।
পরিব্রাজক জীবনে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গী ছিল একটি কমণ্ডলু, লাঠি এবং তার প্রিয় দুটি গ্রন্থ-ভাগবদগীতা
ও ইশানুসরণ। তিনি শিকাগো, জাপান,
চিন, কানাডা, আমেরিকা সহ বিভিন্ন
দেশ ভ্রমণ করেন। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে কলকাতায় বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন
"রামকৃষ্ণ মঠ" এবং সামাজিক কাজের জন্য সংগঠন "রামকৃষ্ণ মিশন"।
১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের বিশ্বধর্ম মহা সম্মেলনে তিনি ভারত এবং
হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার বক্তৃতা শুরু করলেন এভাবে, "আমেরিকার সমবেত ভগিনী ও
ভ্রাতাগণ!" তার এ সম্ভাষণে প্রায় সাত হাজারের মত দর্শক-শ্রোতা দুই মিনিট
দাঁড়িয়ে তাকে সংবর্ধনা জানান।
মাদ্রাজে যাওয়ার পথে কতিপয় জাগয়ায় যেখানে ট্রেন থামত না
সেখানে জনগণ ট্রেন থামাত এবং স্বামীজির বক্তৃতা শোনার পরই ট্রেনকে যেতে দিত।
স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারা দুটি মঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কলকাতার কাছে বেলুড়ের মঠটি রামকৃষ্ণ মঠ এবং অন্যটি হিমালয়ের মায়াবতীতে আলমোড়ার নিকটে অদ্বৈত আশ্রম নামে পরিচিত এবং পরে তৃতীয় মঠটি মাদ্রাজে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভারতে বিবেকানন্দকে ‘বীর সন্ন্যাসী’ নামে অভিহিত করা হয়। তাঁর জন্ম দিনটি ভারতে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়।
"সখার প্রতি" কবিতার অন্তিম দুইটি চরণ– “বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?/জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" – বিবেকানন্দের সর্বাধিক প্রচলিত একটি উক্তি।
তিনি ৪ জুলাই ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি বেলুড়
মঠ, ভারত ইহলীলা ত্যাগ করেন। তিনি আজো সমগ্র তরুন প্রজন্মের কাছে প্রেরনা হয়ে
আছেন।
Comments
Post a Comment