শ্রীমা আনন্দময়ী এর জীবনী
আনন্দময়ী মা একজন
আধ্যাত্মিক
সাধিকা।
১৮৯৬
খ্রিষ্টাব্দের ৩০ এপ্রিল (বাংলা ১৯ শে
বৈশাখ ১৩০৩ বঙ্গাব্দ) ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার খেওড়া গ্রামে তিনি
জন্মগ্রহণ তাঁর পিতা বিপিন বিহারী
ভট্টাচার্য এবং মাতা মোক্ষদা সুন্দরী।
ভূমিষ্ঠ হয়ে আনন্দময়ী মা কাঁদেননি। ছোটবেলা
থেকেই তার মধ্যে দৈব শক্তির লক্ষণ
দেখা দেয়। তাঁর মধ্যেও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত
হয়। ছোট বেলা
থেকেই হরিনাম কীর্তন শুনে
তিনি আত্মহারা হয়ে যেতেন।
মা আন্দময়ীর প্রকৃত নাম নির্মলা সুন্দরী। তার
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না বললেই চলে। ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র তের বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। বিক্রমপুরের রমণী মোহন চক্রবর্তীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
রমণী মোহন ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার নবাবের বাগানে চাকুরি পান। নির্মলা তার সঙ্গে শাহবাগে চলে আসেন। মা ১৯২৬ সালে ঢাকার
সিদ্ধেশ্বরীতে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা
করেন। এই মন্দিরেই একদিন দিব্য ভাবে নির্মলা,
আনন্দময়ী মূর্তিতে প্রকাশিত হন। তখন থেকেই
তার নাম হয় আনন্দময়ী মা হয়। ঢাকার
রমনায় তার আশ্রম গড়ে ওঠে। তিনি মূলত জীবাত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক নির্দেশ
করেছেন।
১৯৩২
খ্রিষ্টাব্দে মা আনন্দময়ী স্বামীর সাথে ভারতের দেরাদুনে চলে যান।
সেখানে তার লীলাক্ষেত্র বেড়ে যায়। তিনি ভারতের
বিভিন্ন স্থানে পুরাতন তীর্থ সমূহের
সংস্কার করেন। এছাড়াও তিনি নতুন নতুন তীর্থ স্থান
প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের রমনা ও খেওড়াসহ ভারতের বারাণসী, কনখল
প্রভৃতি স্থানে তার নামে আশ্রম, বিদ্যাপীঠ, কন্যাপীঠ, হাসপাতাল
ইত্যাদি গড়ে উঠেছে।
মা আনন্দময়ীর নামে মোট ২৫টি আশ্রম গড়ে
হয়েছে। ‘সংসারটা
ভগবানের;
যে
যে অবস্থায় আছে, সেই
অবস্থায় থেকে কর্তব্যকর্ম করে যাওয়া মানুষের কর্তব্য।’ এটাই
মা আনন্দময়ীর মুখ্য বাণী।
১৯৮২
খ্রিষ্টাব্দের ২৭ আগস্ট তিনি দেহত্যাগ করেন। তার মরদেহ উত্তর ভারতের হরিদ্বারে
কনখল আশ্রমে গঙ্গার তীরে সমাধিস্থ হয়।
Comments
Post a Comment