মহাগুরু আদি শঙ্কর বা শঙ্করাচার্য এর জীবনী
আদি শঙ্করাচার্য ছিলেন একজন ভারতীয় দার্শনিক। তিঁনি অদ্বৈতবাদী দর্শণ শাস্ত্রের প্রবক্তা। তাঁর শিক্ষার মূল কথা ছিল আত্ম ও ব্রহ্মের
সম্মিলন। সনাতন ধর্মকে তিনিই রক্ষা করেছেন।
শঙ্করাচার্য ৭৮৮
খ্রিস্টাব্দে অধুনা কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন। তিঁনি এক রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ
করেছিলেন। তাঁর বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা।
শঙ্করাচার্য যখন খুব ছোট, তখন
তাঁর বাবা মারা যান। এই জন্য তাঁর উপনয়নে দেরি হয়। পরে তার মা উপনয়ন
করান। তিঁনি ছেলেবেলা থেকেই খুব বিদ্বান ছিলেন। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চারটি
বেদ আয়ত্ত্ব করেন।
সাত বছর থেকে শঙ্করাচার্য সন্ন্যাস গ্রহণের দিকে ঝুঁকে ছিলেন। কিন্তু তার মা তাকে অনুমতি দিতে
চাইছিলেন না। শেষে তিনি খুব আশ্চর্যজনক ভাবে মায়ের অনুমতি পান।
কথিত আছে, তর্কশাস্ত্রে শঙ্করাচার্য মাত্র নয়/দশ বছর বয়সেই পঁচিশ বছরের পণ্ডিতদের তিনি পরাজিত করতেন। এরপর পনেরো বছরে
পৌঁছেই শঙ্করাচার্য পূর্ণবয়স্ক পণ্ডিতদের সঙ্গে তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তাঁদের পরাজিত করেন। ১৮ বছর বয়সেই তিনি বেদশাস্ত্র, পুরাণ এবং গীতা গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন।
শঙ্করাচার্য কেরল ত্যাগ করে গুরুর খোঁজে উত্তর
ভারতের দিকে রওনা হলেন। নর্মদা নদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরে তিনি গৌড়পাদের শিষ্য
গোবিন্দ ভগবদপাদের দেখা পান। তিনি শঙ্করাচার্যকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে তিঁনি কাশীতে আসেন। সেখানে সনন্দন নামে এক
যুবকের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। এই যুবকটি দক্ষিণ ভারতের চোল রাজ্যের বাসিন্দা
ছিল। সে-ই প্রথম শঙ্করাচার্যের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
শঙ্করাচার্য চারটি
মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো দক্ষিণে কর্ণাটকের শৃঙ্গেরীতে, পশ্চিমে গুজরাটের দ্বারকায়, পূর্বে
ওড়িশার পুরীতে গোবর্ধন মঠ এবং উত্তরে উত্তরখন্ডের জ্যোতির্মঠে (যশীমঠে)।
শঙ্করাচার্য অদ্বৈতবাদী ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন যে, ব্রহ্মই
হল একমাত্র সত্য-এই জগৎ ব্রহ্মময়। তাঁর মতে,
" সঠিক বিদ্যা না থাকার ফলে মানুষ
ব্রহ্মকে বুঝতে পারে না । আত্মাই হল ব্রহ্ম। এই ব্রহ্ম নির্গুণ এবং
আনন্দময় । প্রকৃতপক্ষে, জীবাত্মা
ও পরমাত্মা অভিন্ন”। তিনি প্রায় সকল হিন্দু দেব দেবীদের উদ্দেশ্যে
স্তোত্র রচনা করেন।
আদি শঙ্করাচার্য
৮২০ খ্রিস্টাব্দে দেহত্যাগ করেন। মাত্র বত্রিশ
বছর বেঁচেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর হিন্দুধর্ম সংস্কারের কথা আজও লোকে সশ্রদ্ধ
চিত্তে স্মরণ করে।
-----------------------------------
https://asundormerkothaboli.blogspot.com/2021/12/blog-post_6.html
ReplyDelete