শুদ্ধ ভক্তের ভালবাসার মহিমা।

 

*হরে কৃষ্ণ*

সম্পদ, সাফল্য আর ভালবাসা, সাধারণ মানুষের যা একান্ত প্রিয় এবং কাম্য। এই তিনটি বিষয় মানুষকে যেমন হতাশায় বিদ্ধস্ত করে, তেমনি করে অনাবিল আনন্দে প্লাবিত। তেমনই এক আখ্যান আজ আমরা আলোচনা করবো ।


এক গ্রামে একটি পরিবারে স্বামী, স্ত্রী আর এক ছোট কন্যা বাস করতো। এটা সেই বাড়ির ঘটনা, যা আমরা জানার চেষ্টা করবো।



একদিন বাড়ির মাতাজী তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখলো উঠানের সামনে তিনজন বৃদ্ধ ব্যক্তি বসে আছেন। তিনি তাদের কাউকেই চিনতে পারলেন না। তাই বললেন, ‘আমি আপনাদের কাউকেই চিনতে পারলাম না, কিন্তু আপনারা হয়তো ক্ষুধার্ত। আপনারা ভেতরে আসুন, আমি আপনাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করছি।


তারা জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাড়ির কর্তা কি আছেন?’


মাতাজী বললেন,’না, তিনি বাইরে গেছেন।


বৃদ্ধরা বললেন, ‘তাহলে আমরা আসতে পারবো না। আমরা বাইরে অপেক্ষা করলাম।'


সন্ধ্যায় যখন বাড়ির কর্তা ঘরে ফিরে এসে সব শুনলেন মাতাজী কাছ থেকে। তখন তিনি বললেন, 'যাও তাদের বলো যে আমি ফিরেছি এবং তাদের ঘরে আসার জন্যে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি।



মাতাজী তাদেরকে ডেকে আপনার জন্য বাইরে বের হয়ে গেলেন এবং তাদের ভেতরে আসতে বললেন। কিন্তু তারা বললো, ‘আমরা এভাবে যেতে পারি না।'


মাতাজী জিজ্ঞেস করলেন, 'কিন্তু কেনো? আবার কি সমস্যা হলো?’


বৃদ্ধ লোকেদের মধ্যে একজন বললেন, ’আমাদের মধ্যে একজনের নাম সম্পদ। আরেক জনের দিকে নির্দেশ করে বললেন,’তার নাম সাফল্য। এবং আমি মনোহর ভালবাসা। এখন আপনি ভেতরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিন আমাদের কাকে আপনি ভেতরে ঢুকতে দেবেন।'


মাতাজী যখন ভেতরে গিয়ে সব খুলে বললেন তার স্বামীর নিকট। তিনি অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আসাধারন! চলো আমরা সম্পদকে ডাকি, তাহলে আমরা ধনী হয়ে যাব!'

তার স্ত্রী এতে সম্মতি দিলেন না, ’নাহ, আমার মনে হয়, আমাদের সাফল্যকেই ডাকা উচিত।'



তাদের মেয়ে ঘরের অন্য প্রান্তে বসে আপন মনে খেলছিলো আর মা-বাবার সব শুনছিলো। মেয়েটি সবসময় তার মাবাবার আদর ভালবাসা পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে থাকতো। সে সম্পদ বা সাফল্যের সম্পর্কে কিছুই বুঝতো না। সে বলে উঠলো, 'তোমাদের কি মনে হয় না, আমাদের ভালবাসাকেই ডাকা উচিত? তাহলে আমাদের ঘর ভালবাসায় পূর্ণ হয়ে উঠবে।'


লোকটি মেয়েকে সমর্থন করে বললো, ‘ঠিক আছে আমরা তাহলে আমাদের মেয়ের কথাই শুনবো। তুমি বাইরে যাও এবং ভালবাসাকেই আমাদের অতিথি হিসেবে ডেকে নিয়ে এসো।


মাতাজী বাইরে গেলেন এবং বললেন 'আপনাদের মধ্যে ভালবাসা কার নাম? অনুগ্রহ করে তিনি ভেতরে আসুন। আপনিই আমাদের অতিথি।'



ভালবাসা নামের মনোহর উঠে দাড়ালেন এবং বাড়ির দিকে হাটতে শুরু করলেন। বাকী দুজনও উঠে দাড়ালেন এবং তাকে অনুসরণ করতে লাগলেন। মাতাজী এতে ভীষন অবাক হয়ে গেলেন এবং বললেন, 'আমিতো শুধু ভালবাসা নামের ব্যক্তিটিকে ভেতরে আসার আমন্ত্রন জানিয়েছি। আপনারা কেনো তার সাথে আসছেন?’


বৃদ্ধ লোকেরা বললো, 'আপনি যদি সম্পদ আর সাফল্যকে আমন্ত্রন করতেন তবে আমাদের বাকী দুজন বাইরেই থাকতাম। কিন্তু আপনি যেহেতু ভালবাসাকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন। সে যেখানে যায়, আমরা দুজনও সেখানেই যাই। যেখানেই ভালবাসা থাকে সেখানেই সম্পদ ও সাফল্যও থাকে। ক্রোধ তখনি জন্মায়, যখন ভালবাসা না থাকে। টাকা, পয়সা, ধন, অহংকার সৃষ্টি করে।"


এই অহংকার একমাত্র ভক্তি পথে বা মনূষ্য জন্মে পতনের নরকের দ্বার যেখানে প্রকৃত ভালবাসা জন্ম নেই সেখানে লোভ লালসা, অহংকার, ক্রোধ ইত্যাদি সমস্ত কিছুই নষ্ট হয়। কিন্তু জড় ভালবাসা কখনো সুখ দিতে পারবে না ভালবাসা যথার্থ পাত্রে হতে হবে যথার্থ পাত্র যদি না হয়, তাহলে জড় জগতে সমস্ত অশুভ ছায়া সৃষ্টি করে সেসব আপনার ভিতরে প্রকাশ হবে তাই প্রকৃত ভালবাসা শুধুমাত্র পরমত্মার প্রতি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট। ঈশ্বরের সৃষ্টিতে না আছে ভক্তির ও ভালবাসার অভাব ভক্তি থেকে ভালবাসার উৎপত্তি আর ভক্তি মুক্তি বিষয়ের বন্ধন থেকে সেই ভক্তি শ্রীকৃষ্ণের নিকটে নিবেদন করতে হবে। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভালবাসা পৃথীবির সমস্ত ধনের বড় ধন গোবিন্দের শ্রীচরণ।


'ভক্তি বিনা মুক্ত নেই।" আর এই ভক্তির মুল কথা কথা বা মুল স্তম্ভ হলো ভালবাসা। আর ভালবাসার মূল পাত্র 'হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র' জপ করা। এই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবানের সাথে আমরা সম্পর্ক করতে পারবো।


পরমকরুনাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণী আর সকল বৈষ্ণব ভক্ত পার্যদদের শ্রীচরণকমলে, সবার মঙ্গলময়, কল্যাণময়, প্রেমময়, ভক্তিময়, মুক্তিময়, শান্তিময়, সুন্দরময় এবং আনন্দময় জীবনের জন্য আমাদের নিয়ত প্রার্থনা।



"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে !!"

!!জয় হোক সকল ভক্তদের!!

!!জয় শ্রীকৃষ্ণ!! জয় রাধে!!

Comments

Popular posts from this blog

লোকনাথ ব্রহ্মচারী এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

সমবয়সী কিংবা বয়সে ছোটদের নমস্কার দেওয়া উচিত?

অষ্ট সখী সম্পর্কে অজানা এ তথ্য জানেন তো?