#দেবী_দুর্গার_দশ_হাতে_দশ_রকম_অস্ত্রের_মাহাত্ম্য, এবং কোন হাতে কোন অস্ত্র থাকে :
তলোয়ার: বুদ্ধিমত্তার প্রতীক তলোয়ার৷ যার জোরে সমস্ত বৈষম্য এবং অন্ধকারকে ভেদ করতে পারে মানুষ৷
শঙ্খ: বরুণ দেব দিয়েছিলেন শঙ্খ ৷ যার ধ্বনি মঙ্গলময়। আবার যুদ্ধের আহ্বান
জানাতে দেবী ব্যবহার করেছিলেন শাঁখ।
ত্রিশূল: মহামায়ার হাতে ত্রিশূল তুলে দিয়েছিলেন স্বয়ং শিব৷ কথিত আছে, ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা
ব্যাখ্যা আছে। মানুষ তিনটি গুণ, সত্য, তমঃ, রজঃ -র প্রতীক ত্রিশূলের তিন ফলা।
সাপ: শেষনাগ দেবী দুর্গাকে দিয়েছিলেন নাগপাশ৷ শুদ্ধ চেতনার প্রতীক হল এই
সাপ।
পদ্ম: দেবীর হাতে ব্রহ্মা তুলে দেন পদ্ম৷ পাঁকে জন্মায় পদ্ম। কিন্তু তা
কলঙ্কহীন। দেবীর আশীর্বাদে অন্ধকার কেটে আলের সঞ্চার হয়। সেই আলোর বার্তাবহ পদ্ম।
ঘণ্টা : দেবীর বাম হস্তে থাকে ঘণ্টা। কথিত আছে, দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত দেবী
দুর্গাকে এই ঘণ্টা দিয়েছিলেন। ঘণ্টা ধ্বনি অসুরদের তেজকে দুর্বল করে।
গদা: যমরাজ দেবী দুর্গাকে দিয়েছিলেন দিয়েছিলেন গদা ৷ যা কালদণ্ড নামেও
পরিচিত। গদা আনুগত্য, ভালবাসা এবং ভক্তির প্রতীক। সেই সঙ্গে
শক্তিরও প্রতীক। দশভূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হল গদা।
তির-ধনুক: পবন দেব দেবীকে দিয়েছিলেন তির-ধনুক ৷ উভয়ই ইতিবাচক শক্তির প্রতিক
৷ পুরাণে পরাক্রমশালী শত্রুনাশ করতে তির-ধনুকের বিকল্প নেই।
চক্র: শ্রীবিষ্ণু দেবী দুর্গাকে তুলে দিয়েছিলেন শক্তিশালী চক্র। চক্র সদা
আবর্তিত হয়। বিনাশ করে শত্রুর। দেবী দুর্গার হাতে চক্র থাকার অর্থ ,সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে অবস্থান করছেন
দেবী।
বজ্র: মহামায়ার হাতে দেবরাজ ইন্দ্র তুলে দিয়েছিলেন বজ্র৷ মায়ের হাতের এই
অস্ত্র দৃঢ়তা এবং সংহতির প্রতীক।
বল্লম: দেবীকে
জ্বলন্ত ভল্ল দিয়েছিলেন (বর্শা বা বল্লম) অগ্নিদেব। একই সঙ্গে জ্ঞান ও অপরিমিত
তেজপুঞ্জের প্রতীক হলো ভল্ল।
ঢাল ও
পরশু (কুঠার): দেবীকে বিশ্বকর্মা দিয়েছিলেন ঢাল
ও কুঠার। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতীক হল ঢাল এবং অশুভশক্তি সংহারের
প্রতীক হলো কুঠার।
মায়ের দশটি হাতে যখন এই অস্ত্র-গুলি সাজানো
হয়ে থাকে ঠিক এরই সঙ্গে মায়ের বাহন সিংহ রাজ, তার
অবস্থান এবং মহিষাসুরের অবস্থান সম্বন্ধেও তথ্যটি সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। কারণ এই
তথ্যের আলোকে মাকে সাজানো ও মায়ের পূজা করা হয়ে থাকে।
সুতরাং মা দুর্গার দশটি হাতের মধ্যে প্রথমে ডান
হাতে মহিষাসুরকে যে ত্রিশূল দিয়ে মা দুর্গা বধ করেছিলেন সেই ত্রিশূল থাকে মা
দুর্গার ডান হাতে (তবে ডান ও বাম উভয় হাত দিয়েও এই ত্রিশূল ধরতে দেখা যায়)। মা দুর্গার আটটি হাতের মধ্যে তার
ডান দিকের প্রথম হাতে থাকবে খরগ, দ্বিতীয় হাতে চক্র
তৃতীয় হাতে তীর চতুর্থ হাতে গদা, মায়ের বাহাতে প্রথম হাতে থাকে ঢাল, দ্বিতীয় হাতে
থাকে ধনুক তৃতীয় হাতে অঙ্কুশ এবং চতুর্থ হাতে ঘন্টা কিংবা কুঠার।
মায়ের দশটি হাতে এইভাবে সকল অস্ত্রের
সাজসজ্জা থাকে কিন্তু অনেক মন্দিররুপী প্যান্ডেলে বা
অনেকের পূজা প্রাঙ্গণে মায়ের মূর্তি আধুনিকতার স্পর্শ
দিয়ে গিয়ে এই অস্ত্রের যে নিয়ম যে হাতে রাখার, সেটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেকেই পালন না করে
এলোমেলোভাবে সজ্জ্বিত করে। যার ফলে এটি
শাস্ত্রে উল্লিখিত নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
এরই সঙ্গে যখন মা দুর্গার বাহন সিংহের উপর
তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন তখন সিংহের বসার যে দিক হবে, সেটি
শাস্ত্রে ডানদিক জানানো হয়েছে। আর মহিষাসুরের দিক নির্দেশ বাম দিক জানানো হয়েছে।
এদিকে মহিষাসুর এবং সিংহের অবস্থান সঠিক রাখা এবং শাস্ত্রের নিয়ম নির্দেশিত
রয়েছে।
যেদিকে মা সিংহের উপর পা রেখে দাঁড়াবেন, সিংহ থাকবেন ডান দিকে এবং যেখানে মহিষাসুরকে পদতলে রেখে মা দুর্গা বধ
করবেন সেখানে মহিষাসুর বাম দিক থাকবে।
এভাবেই যদি আমরা এই নিয়ম যথাযথভাবে পালন করি তাহলেই মাকে আমরা পুজায় সন্তুষ্ট করতে পারব এবং মায়ের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য লাভের চেষ্টা করতে পারব।




Comments
Post a Comment