Posts

Showing posts from February, 2022

শিব রাত্রি কী এবং কেন পালন করা হয় ?

Image
ফাল্গুন মাসে শিবের আরাধনা দেশবাসীর কাছে পরম পবিত্র। কথিত আছে , এই দিনেই শিব ' লিঙ্গরূপে ' আত্মপ্রকাশ করেন। আবার কেউ বলেন , এই দিন বিয়ে হয়েছিল শিব-পার্বতীর। পুরাণ মতে , শিবরাত্রির দিন শিবকে   স্বপ্নে পেয়েছিলেন পার্বতী । আবার কোথাও উল্লেখ রয়েছে এদিনেই নাকি পার্বতীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মহাদেবের। শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে কোথাও কোথাও তিন দিন আগে থেকে শুরু হয় মন্দিরের সাজসজ্জা। পার্বতী এবং শিবের মূর্তিকে বর কনে সাজিয়ে ঘরে-ঘরে ঘোরানো হয় , মহাশিবরাত্রির দিন ওদের বিয়েও দেওয়া হয়। শিবরাত্রি হচ্ছে হিন্দু শৈব সম্প্রদায়ের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। মহাশিবরাত্রি বা শিবরাত্রি হচ্ছে হিন্দু শৈব সম্প্রদায়ের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এই মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়। মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব ‘ শিবের মহা রাত্রি ’ ।   দ্বিতীয়ত , স কলেই জানেন দেবতা আর অসুররা যখন সমুদ্রমন্থন করেন তখন সমুদ্র থেকে ভয়াবহ বিষ উঠতে থাকে ; বিষের উগ্রতায় সমস্ত সৃষ্টি ধ্বংসের মুখে চলে যায়। বিশ্ব-চরাচরকে বাঁচ...

বিজয়া একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য/রামচন্দ্র কেন এই একাদশী পালন করেছিলেন?

Image
স্কন্দপুরাণে এই একাদশী মহাত্ম্য বর্ণিত রয়েছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে বাসুদেব! ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর মাহাত্ম্য অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন।   শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে যুধিষ্ঠির! এই একাদশী ‘ বিজয়া ’ নামে পরিচিত। এই একাদশী সম্পর্কে একসময় দেবর্ষি নারদ স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।   তিনি এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন , তা আমি এখন তোমাকে বলছি। এই পবিত্র পাপবিনাশকারী ব্রত মানুষকে জয় দান করে বলে ‘ বিজয়া ’ নামে প্রসিদ্ধ।   পুরাকালে শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিলেন। সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে তিনি পঞ্চবটী বনে বাস করতেন। সেই সময় লঙ্কাপতি রাবণ দেবী সীতাকে হরণ করে।   সীতার অনুসন্ধানে রামচন্দ্র চতুর্দিক ভ্রমণ করতে থাকেন। তখন মৃতপ্রায় জটায়ুর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। জটায়ু রাবণের সীতাহরণের সমস্ত বৃত্তান্ত রামচন্দ্রকে জানিয়ে মৃত্যুবরণ করে। এরপর সীতা উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।   ভগবান রামচন্দ্রের কৃপায় হনুমান লঙ্কায় গমন করেন। সেখানে অশোক বনে সীতাদেবীকে দর্শন করে শ্রীরাম প্রদত্ত অঙ্গুরীয় (আংটি) তাঁক...

ভগবানকে স্বরণ করার সময় অন্য চিন্তা আসে কেন ?

Image
বহু দিন ধরে কোন স্থান পরিস্কার না করলে সে স্থানে ধুলো - ময়লা জমা হয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু যখন আপনি ঝাড়ু দিয়ে সেগুলি পরিস্কার করতে যাবেন অমনি অনেক ধুলো বালি উড়তে থাকে , আর তা নাকে মুখে ঢোকে । ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছিল না , ধুলোও তেমন উড়ছিল না। ঝাড়ু দেওয়া শুরু হলো , অমনি ধুলো ও উড়তে শুরু করলো। তেমনি ,, বহু দিন ধরে হৃদয়ে নানা কলুষ জমা হয়ে থাকে। কিন্তু যখন আপনি হরিনাম করে সেগুলি পরিস্কার করতে যাচ্ছেন ,   অমনি অনেক আজে - বাজে বা অন্যান্য কলুষ ভাবগুলি উড়তে থাকে এবং সেই সব চিন্তা মাথায় আসে ।                                                                                     ...

সাবিত্রী-সত্যবান উপাখ্যান

Image
মদ্র দেশের রাজা ছিলেন অশ্বপতি। তাঁর স্ত্রী মালবী। তাঁদের কোন সন্তান ছিলো না। কিন্তু রাজার খুব আফসোস একটা সন্তানের। সন্তানের প্রত্যাশায় তাঁরা সাবিত্রীদেবীর পুজা দিলেন। সাবিত্রীদেবী খুশি হয়ে বর দিলেন এক কন্যা সন্তানের। সূর্যের অধিষ্ঠাত্রী সাবিত্রী দেবীর বরে জন্ম বলে কন্যার নাম রাখলেন সাবিত্রী। দেখতে দেখতে সাবিত্রী বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠলেন। অশ্বপতি কন্যাকে নিজেই নিজের উপযুক্ত পাত্রের অন্বেষণ করতে বললেন। সাবিত্রী বিভিন্ন স্থান ঘুরে এসে পিতাকে জানালেন, শাল্ব দেশের দ্যুমৎসেনের পুত্র সত্যবানকে তিনি মনে মনে স্বামী হিসেবে বরণ করেছেন। অন্ধ হয়ে দ্যুমৎসেন তখন রাজ্য হারিয়ে বনবাস করছেন। রাজা অশ্বপতির ব্যাপারটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। অশ্বপতির সভায় উপস্থিত ছিলেন দেবর্ষি নারদ। রাজা তাঁর পরামর্শ জানতে চাইলেন।   নারদ জানালেন আরো ভয়ানক কথা , সত্যবান সুদর্শন , সত্যবাদী , দাতা ও ব্রাহ্মণসেবী। কিন্তু তার আয়ু আর এক বছর। এক বছর পরই তার মৃত্যু ঘটবে। অশ্বপতি সে কথা শুনে কন্যাকে অন্য কোন পাত্রকে বরণ করতে বললেন।   কিন্তু সাবিত্রী রাজি হলেন না। সবিত্রী বললেন , ‘ মনে মনে যাকে একবার স্বামী হিসেব...

শ্রী পঞ্চমীতে/সরস্বতী পূজার সময় কি হাতে খড়ি বা বিদ্যা আরম্ভ করা উচিৎ ?

Image
চিরকাল দেখে এসেছি-  সরস্বতী পূজার দিন হাতে খড়ি । শ্রী পঞ্চম্যাং লিখেন্নৈব ন স্বাধ্যায়নং কদাচন। বাণীকোপমবাপ্নোতি লিখনে পঠনেহপি চ। শ্রীপঞ্চমীতে লিখিবে না , পড়িবে না   । " সরস্বতী পূজার দিন লেখা - পড়া নিষেধ...... এই দিন হাতে খাড়ি টা সম্পূর্ন অশান্ত্রীয়৷ হতে খাড়ি র জন্য অন্য দিন আছে , তাকে বিদ্যারম্ভ বলে । সেটি হিন্দু ধর্মের দশবিধ সংস্কার এর মধ্যে একটি ৷ বিদ্যারম্ভের দিন আলাদা ভাবে পঞ্জিকায় থাকে , বাণী বন্দনার দিন বিদ্যারম্ভ করা অশাস্ত্রীয়। সরস্বতী পূজার সময় বা কাল নির্নয়ঃ " মাঘে মাসি সিতে পক্ষে পঞ্চমী যা শ্রিয়ঃ প্রিয়া। তস‍্যা পূর্বাহ্ন এবেহ কার্য্যঃ সারস্বতোৎসবঃ।।" মাঘ মাসে (কখনও কখনও ফাল্গুল মাসে ; যেমন এই বছর) শুক্ল পক্ষের পূর্বাহ্নকালিন পঞ্চমীতিথিতে সারদোৎসব করতে হবে। এখানে সারদোৎসব অর্থে সরস্বতীপূজার কথা বলা হয়েছে। দেবীর অপর নাম সারদা। পূর্বাহ্ন অর্থে দিনের সূর্যোদয় তথা তিন ঘন্টা। অর্থাৎ যদি সূর্যোদয় ৬টায় হয় , তবে পূর্বাহ্নকাল সকাল ৬-৯টা পর্যন্ত। অর্থাৎ এই ৯টার মধ্যে দেবী সরস্বতীর পূজা বা শ্রীপঞ্চমীকৃত‍্য অথবা লেখনী মাস‍্যাধার পূজা সমাপ্ত ক...