Posts

Showing posts from December, 2021

সফলা_একাদশী_ব্রত_মাহাত্ম্যঃ

Image
  পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ‘ সফলা ’ । ব্রহ্মান্ডপুরাণে যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে এই তিথির মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। যুধিষ্ঠির বললেন- হে প্রভু! পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম , বিধি এবং পূজ্যদেবতা বিষয়ে আমার কৌতুহল নিবারণ করুন।   শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে মহারাজ! আপনার প্রতি স্নেহবশত সেই ব্রত কথা বিষয়ে বলছি। এই ব্রত আমাকে যেরকম সন্তুষ্ট করে , বহু দানদক্ষিণাযুক্ত যজ্ঞাদি দ্বারা আমি সেইরকম সন্তুষ্ট হই না। তাই যত্নসহকারে এই ব্রত পালন করা কর্তব্য।   পৌষ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম ‘ সফলা ’ । নাগদের মধ্যে যেমন শেষ নাগ , পক্ষীদের মধ্যে গরুড় , মানুষের মধ্যে ব্রাহ্মণ , দেবতাদের মধ্যে নারায়ণ সর্বশ্রেষ্ঠ ; তেমনই সকল ব্রতের মধ্যে একাদশী ব্রতই সর্বশ্রেষ্ঠ।   হে মহারাজ! যারা এই ব্রত পালন করেন , তারা আমার অত্যন্ত প্রিয়। তাদের এজগতে ধনলাভ ও পরজগতে মুক্তি লাভ হয়। হাজার বছর তপস্যায় যে ফল লাভ হয় না , একমাত্র সফলা একাদশীতে রাত্রি জাগরণের ফলে তা অনায়াসে প্রাপ্ত হওয়া যায়।   মহিষ্মত নামে এক রাজা প্রসিদ্ধ চম্পাবতী নগরে বাস করতেন। রাজার চারজন পুত্র ছিল। কি...

মৃত্যুর পথে পথে/যমরাজ ও আমি।

Image
    যমরাজ হাসপাতালে আমার সামনে দাঁড়িয়ে । তিঁনি বললেন , আমি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি , আপনি চলুন আমার সাথে ।   আমি যমরাজকে বললাম , আপনি অসময়ে আমার প্রাণ হরণ করার জন্য এসেছেন , আমার মৃত্যুর সময় তো এখন হয়নি । এটা তো অন্যায় , আপনি এখন আমাকে নিয়ে যেতে পারবেন না । আমি আপনার সাথে যেতে চাই না । আমি বাঁচতে চাই , সবে আমার বয়স ৩২ । এই বয়সে কেউ মুত্যৃলোকে যায় নাকি ?   যমরাজ হেসে জানাল , এমন অনেক জীব আছে যারা পৃথিবীতে এসে ৩২ সেকেন্ডও বেঁচে থাকতে পারে না , আবার অনেকে তো প্রাণ নিয়েও জন্ম নিতে পারে না , মার্তৃগর্ভেই প্রাণ ত্যাগ করে । আর আপনি তো ৩২টা বছর এই সুন্দর পৃথিবীতে অতিবাহিত করছেন ।   আমি  যমরাজের  কথায় সায় দিলাম । যমরাজ আমাকে বলল , দুর্ঘটনায় আপনি এখন মৃত্যু - পথের যাত্রী । এবার আপনাকে আমার সাথে মৃত্যুপুরীতে যেতে হবে , চলুন আমার সাথে ।   আমি হতভাক হয়ে গেলাম ! জমরাজকে বললাম , আমি তো মরতে চাইনি । আমি আমার ‍ তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হয়ে ছিলাম । রাস্তা প্রায় ফাঁকা ছিল । আমার মেয়ে আমার হাত ধরে রাস্তার পাশ দিয়ে ...

শ্রীমদ্ভগবদগীতা বা গীতা কী? গীতার ১৮টি অধ্যায়ের সার সংক্ষেপ:

Image
  শ্রীমদ্ভগবদগীতা বা গীতা একটি ৭০০ শ্লোকের ধর্মগ্রন্থ। সাতশত শ্লোকের একটি গ্রন্থ বিধায় একে সপ্তশতী বলে।   গীতা   মহাভারত - এর একটি অংশ । গীতা একটি স্বতন্ত্র ধর্মগ্রন্থ তথা একটি পৃথক শাস্ত্র এর মর্যাদা পেয়ে থাকে। গীতা ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী । মানবধর্ম , দর্শন ও সাহিত্যের ইতিহাসে গীতা এক বিশেষ স্থানের অধিকারী। গীতা - র কথক স্বয়ং   ভগবান । মহর্ষি বেদব্যাস গীতা রচনা করেছিলেন ।   গীতা - র বিষয়বস্তু কৃষ্ণ ও পাণ্ডব রাজকুমার অর্জুনের কথোপকথন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে শত্রুপক্ষে আত্মীয় , বন্ধু ও গুরুকে দেখে অর্জুন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। এই সময় কৃষ্ণ তাকে ক্ষত্রিয় যোদ্ধার ধর্ম স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবং বিভিন্ন প্রকার যোগশাস্ত্র ও বৈদান্তিক দর্শন ব্যাখ্যা করে তাকে যুদ্ধ   করতে উৎসাহিত করেন। তাই গীতা - কে বলা হয় মানব ধর্মতত্ত্বের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ এবং হিন্দুদের জীবনচর্যার একটি ব্যবহারিক পথ নির্দেশিকা। যোগশাস্ত্র ব্যাখ্যার সময় কৃ...