Posts

Showing posts from February, 2023

মানুষের সর্বনাশ যেভাবে হয়

Image
আমরা শ্রীমদভগবদ গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬২ ও ৬৩ নাম্বার শ্লোক থেকে জানতে পারি কিভাবে একজন মানুষের সর্বনাশ হয়। ধ্যায়তো   বিষয়ান্   পুংসঃ   সঙ্গস্তেষূপজায়তে   । সঙ্গাৎ   সঞ্জায়তে   কামঃ   কামাৎ   ক্রোধোহভিজায়তে   ॥৬২   ক্রোধাদ্   ভবতি   সম্মোহঃ   সম্মোহাৎ   স্মৃতিবিভ্রমঃ   । স্মৃতিভ্রংশাদ্   বুদ্ধিনাশো   বুদ্ধিনাশাৎ   প্রণশ্যতি   ॥৬৩ অর্থাৎ, ভগবান বলছেন, ইন্দ্রিয়ের বিষয় সমন্ধে চিন্তা করতে করতে মানুষের তাতে আসক্তি জন্মায়। আসক্তি থেকে কাম উৎপন্ন হয় এবং কামনা থেকে ক্রোধ উৎপন্ন হয়। ক্রোধ থেকে সম্মোহ, সম্মোহ থেকে স্মৃতিবিভ্রম, স্মৃতিবিভ্রম থেকে বুদ্ধিনাশ এবং বুদ্ধিনাশ হওয়ার ফলে সর্বনাশ হয়। উক্ত শ্লোক দুটির আলোকে একটি ছোট গল্প বলছি- এক গ্রামে নয়ন নামে একটি ছেলে ছিল। সে কলেজে লেখাপড়া করত। নয়ন প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার পথে একটি আপেল বাগান দেখতে পেত। ঐ বাগানে অনেক সুন্দর সুন্দর পাকা আপেল ছিল। নয়ন ঐ আপেলগুলো দেখে মনে মনে চিন্তা করত, আহ! আপেলগুলো দেখতে কত সুন্দর।  নয়ন যেদিনই কলেজে যেত, সেদিনই সে আপেলে...

মানুষের_মৃত্যুর_পর_কি_গতি_হয়?

Image
জীবের মৃত্যুর পর ০২ ( দুই ) প্রকার গতি প্রাপ্ত হয়। ১ ) যে সমস্ত জীব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট আত্মসর্মপণ করে , তারা ভগবদ্ভজনের প্রভাবে সমস্ত জড় কলুষ থেকে মুক্ত হয়ে নিত্য আলয় ভগবৎ ধামে গমন করে। সেখানে তারা দিব্য শরীর প্রাপ্ত হয়ে নিত্যকালের জন্য ভগবানের সেবায় নিযুক্ত হয়। ২ ) যাদের জড় জাগতিক কামনা বাসনা আছে , তারা মৃত্যুর মাধ্যমে ক্ষিতি , অপ , তেজ , মরুৎ ও ব্যোম দিয়ে তৈরী স্থুল শরীরকে পরিত্যাগ করে। কিন্তু মন , বুদ্ধি ও ‍ অহংকার নির্মিত সূক্ষ্ম শরীর তাদের পাপ ও পূর্ণ কর্মফল বহন করে। পাপ কর্মের ফল স্বরূপ তারা যম যাতনা ভোগ করে আর পূর্ণ কর্মের ফল স্বরূপ স্বর্গ সুখ ভোগ করে থাকে। এই ভোগের পর তাদের নিজ নিজ কর্ম ও চেতনা অনুসারে তারা আর একটি স্থূল জড় শরীর প্রাপ্ত হয়। এভাবে ৮৪ লক্ষ জীব প্রজাতির যে কোন একটি প্রজাতিতে তাদের জন্মগ্রহণ করতে হয়। “ হরে কৃষ্ণ ” ।

পঞ্চ মহাভূত কী? পঞ্চ মহাভূতের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা।

Image
পঞ্চ মহাভূত কী ?    পঞ্চভূত বা পঞ্চমহাভূত পাঁচটি মহান উপাদান। এছাড়াও পাঁচটি ভৌত ​​উপাদান হল পাঁচটি মৌলিক উপাদানের একটি দল, যা হিন্দুধর্ম অনুসারে, সমস্ত মহাজাগতিক সৃষ্টির ভিত্তি। এই উপাদানগুলি হল:  ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ  (জল), তেজ (অগ্নি), মরুৎ (বায়ু) ও ব্যোম (আকাশ)। পঞ্চ মহাভূতের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা : পঞ্চতত্বের   সঙ্গে   মিশে   এই   সৃষ্টির   রচনা   হয়েছে।   আকাশ ,  পৃথিবী ,  জল   বায়ু   ও   অগ্নি   হল   পঞ্চতত্ব।   তবে   সবই   স্বতন্ত্র   অস্তিত্ব   রয়েছে।   কিন্তু   যখন   এগুলিকে   নিয়ন্ত্রিত   করা   হয় ,  তা   হলে   সমস্ত   শক্তির   একত্রিত   প্রভাব   লাভপ্রদ   হয়। বাড়িতে   পঞ্চভূতের   ভারসাম্য   রেখে   তৈরি   করা   হলে   তাতে   বসবাসকারী   ব্যক্তিদের   শারীরিক   ও   আন্তরিক   শক্তি   সেই   মহাভূতের   সঙ্গে ...